ফ্রান্সে জাতীয় শোকের দ্বিতীয় দিন, সবাইকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

ফ্রান্সে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন চলছেফ্রান্সের নিস শহরে ট্রাক হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো জাতীয় শোক পালন করছেন ফরাসিরা। এরইমধ্যে হামলাস্থল প্রমেনাদে অ্যাংলাইস এলাকা জনসাধারণের চলাচলের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হলেও জনগণের মন থেকে বৃহস্পতিবারের (১৪ জুলাই) সেই ভয়াবহ সেই স্মৃতি কিছুতেই যেন কাটছে না। এদিকে ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার পুলিশ ও সেনা সদস্যের পাশাপাশি ১২ হাজার রিজার্ভ পুলিশকে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে যেসব ফরাসি দেশের সুরক্ষায় কাজ করতে চান তাদেরকে রিজার্ভ পুলিশে যোগ দিয়ে সীমান্ত রক্ষায় কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারনার্ড কেজেনুভে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রমেনাদে দে অ্যাংলাইসে নিহতদের প্রতি শোক জানাতে ফুল আর কার্ড হাতে সমবেত হচ্ছেন স্থানীয় ফরাসি ও বিদেশি পর্যটকরা। শনিবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইনটেলিজেন্সে আইএসের দায় স্বীকারের খবর প্রকাশ হওয়ার পর দেশের সবাইকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারনার্ড কেজেনুভে। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আমাদের বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা যদি তাদেরকে আমাদের বিভক্ত করার সুযোগ দিই তবে তা তাদের লক্ষ্যই পূরণ করবে।

শনিবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর মুখপাত্র বলে পরিচিত ‘আমাক’ নামের সংবাদ সংস্থায় ফ্রান্সের হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে; এমন দাবি করেছে জিহাদি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত বেসরকারি সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স। সাইট বলছে, আইএস-এর অভ্যন্তরীণ সূত্রের কাছেই এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে আমাক। তবে অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও হামলাটি সত্যিই আইএসের কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ট্রাক চালক লোহৌআইজ বৌহলেল আদৌ আইএসের নামে এ হামলা চালিয়েছেন কিনা সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বোঝা যাচ্ছে, হামলার আগে খুব দ্রুত উগ্রপন্থী হয়ে ওঠেন বৌহলেল'। বারনার্ড এ ধরনের ঘটনাকে নতুন ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারনার্ড আরও জানান, ওই হামলায় কোনও ধরনের ভারী অস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়নি। তাছাড়া পরিচিতজনদের বর্ণনা অনুযায়ী ট্রাক চালক বৌহলেল ধর্মপ্রাণ মুসলিমও ছিলেন না। তিনি রোজা রাখতেন না কিবা তাকে স্থানীয় মসজিদে দেখা যেত না। সব কিছুকে বিবেচনায় রেখে প্রসিকিউটররা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। 

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) রাতে বাস্তিল দিবস উদযাপনের জন্য ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নিসের প্রমেনাদে দেজ অ্যাংলেইসে আতশবাজি প্রদর্শনী দেখতে জড়ো হয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। একটি ট্রাক বেপরোয়াভাবে ওই জমায়েতের দিকে ছুটে আসে। আতঙ্কিত লোকজন এদিক সেদিক ছুটোছুটি শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই ট্রাক চালক মানুষকে ট্রাকচাপা দেওয়ার পাশাপাশি গুলিও চালিয়েছে। পরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় ৮৪ জন নিহত হন, আহত হন ২০২ জন।  নিহতদের মধ্যে ১০ জন শিশুও রয়েছে।
নিহতদের স্মরণে শনিবার থেকে তিনদিনের জাতীয় শোক পালন শুরু হয়। ফ্রান্সের নিস শহরে ট্রাক হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের নিরাপত্তা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শুক্রবার হামলার পর ট্রাক চালককে শনাক্ত করে পুলিশ। তিনি তিউনিসিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক। তার নাম মোহাম্মদ লাহৌআইজ বৌহলেল। বয়স ৩১ বছর। পুলিশ সূত্র এবং ফরাসি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুইদিন আগে নিস শহরের পার্শ্ববর্তী সেইন্ট-লঁরা-দু-ভার থেকে ট্রাকটি ভাড়া করেন চালক। তিউনিসিয়ার নিরাপত্তাবাহিনীর সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়,বৌহলেল প্রায়ই তিউনিসিয়ায় আসা-যাওয়া করতেন।  সর্বশেষ আট মাস আগেও তিনি দেশটিতে গিয়েছিলেন তিনি। সূত্র: গার্ডিয়ান, বিবিসি

/এফইউ/