আনাদোলু জানিয়েছে, রবিবার (১৭ জুলাই) গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপরাস এক বিবৃতিতে ওই আট সেনা সদস্যকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমকে নিশ্চিত করেছেন। ওই বিবৃতিতে সিপরাস ক্যু প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তুর্কি জনগণ এবং সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য তুরস্কে সাংবিধানিক গণতন্ত্র বজায় রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
তুর্কি সরকারকে সমর্থনের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইলদিরিম গ্রিক প্রধানমন্ত্রী সিপরাসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
রবিবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান জানিয়েছেন, তার সঙ্গে টেলিফোনে সিপরাসের কথা হয়েছে। সিপরাস তাকে আশ্বস্ত করেছেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ওই আট তুর্কি সেনা সদস্যকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে ওই সেনা সদস্যরা একটি সামরিক ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার নিয়ে গ্রিসে পালিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে। ওই হেলিকপ্টারটি শনিবার রাতে তুরস্কে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গ্রিসের পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে একটি হেলিকপ্টারে করে ওই আট সেনা সীমান্তবর্তী আলেক্সান্দ্রোপিয়ায় অবতরণ করে।
অলগা গেরোভেসিলি নামে গ্রিস সরকারের এক মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার সকালে গ্রিসের আকাশসীমায় ঢুকে এসওএস বার্তা পাঠিয়ে তুরস্কের একটি সামরিক হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণের অনুমতি চায়।
পরে তাদের গ্রেফতার করা হলে তারা গ্রিস সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার নেওয়ার দাবি করে, যা দেশটির টেলিভিশনে প্রচার করা হয়।
মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করে দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে’ সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের ক্ষমতা দখল করেছে। টেলিভিশনের পর্দায় পড়ে শোনানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এখন ‘শান্তি পরিষদ’দেশ চালাবে এবং কারফিউ ও সামরিক আইন জারি থাকবে। একই সঙ্গে তুরস্কের বিদ্যমান বৈদেশিক সব সম্পর্ক বহাল থাকবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রাধান্য পাবে। কারফিউর বিরোধিতা করে এরদোয়ানের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর সব অংশের সমর্থন না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতায় জনগণ রাস্তায় নেমে এলে বিদ্রোহী সেনাদের উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থান চেষ্টায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। রবিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে নিহতের এ সংখ্যা জানানো হয়েছে। এর আগে নিহতের সংখ্যা ২৬৫ বলে জানানো হয়েছিল।
সূত্র: আনাদোলু।
/এসএ/বিএ/