সোমবার (১৮ জুলাই) ছিল রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনের প্রথম দিন। এদিন ক্যাম্পেইনের মধ্যমণি হয়ে ওঠেন মেলানিয়া। কনভেনশনের প্রথম দিনেই বক্তব্য দেন তিনি। তাকে সহযোগিতা করে একটি বক্তব্য রচনাকারী দল। শুরুতে ওই বক্তব্যের জন্য প্রশংসিত হলেও এক পর্যায়ে সমালোচনার মুখে পড়েন মেলানিয়া। ধারাবিবরণকারীদের অভিযোগ, ২০০৮ সালে বর্তমান মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা কনভেনশনে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার সঙ্গে মেলানিয়ার বক্তব্যের মিল রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, মেলানিয়াকে বক্তব্যটি তৈরি করে দেন মেরেডিথ ম্যাকাইভার। বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, বক্তব্য লেখার আগে মেলানিয়ার সঙ্গে এ ব্যাপারে তার ফোনে আলোচনা হয়। সে সময় মেলানিয়া কয়েকজনের গল্প করেন যারা তাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। মিশেল ওবামা সবসময় তাকে উদ্বুদ্ধ করতেন উল্লেখ করে তার বক্তব্যের কয়েকটি অনুচ্ছেদ ম্যাকাইভারকে পড়ে শোনান মেলানিয়া।
ম্যাকাইভারের দাবি, ওই অনুচ্ছেদগুলো তিনি লিখে রেখেছিলেন। কিন্তু পরে বক্তব্য লেখার সময় ভুল করে তিনি তা মেলানিয়ার বক্তব্যে যুক্ত করে দেন। মিশেল ওবামার বক্তব্য যাচাই করে দেখেননি দাবি করে ম্যাকাইভার বলেছেন এটা তার ভুল ছিল। তিনি বলেন, ‘মেলানিয়া আর ট্রাম্পকে নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে তার জন্য অস্বস্তি বোধ করছি’।
ভুলের দায় স্বীকার করে ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন বলে জানান ম্যাকাইভার। কিন্তু মানুষ ভুল করে ও ভুল থেকে শিক্ষা নেয় উল্লেখ করে ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
অথচ এর আগে মেলানিয়া তার বক্তব্যে মিশেলকে অনুকরণ করেনি বলে দাবি করেছিল ট্রাম্প শিবির। তারা দাবি করেছিলেন, অভিযোগটি ভিত্তিহীন।
উল্লেখ্য, কনভেনশনে দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশে মেলানিয়া বলেন-‘আমার বাবা-মা জীবনে যা চাই তা পেতে কঠোর পরিশ্রম করার মূল্যবোধ শিখিয়েছেন। তারা বলেছেন, কথা হলো বন্ধনের মতো। যা বলব সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার মানেই হলো জনগণকে শ্রদ্ধা করা।’
অন্যদিকে ২০০৮ সালে দেওয়া বক্তব্যে মিশেল ওবামা বলেছিলেন, ‘আমি ও বারাক একইধরনের অনেকগুলো মূল্যবোধ নিয়ে বড় হয়েছি। সেই মূলবোধ যা বলে তাহল- 'জীবনে যা চাও তার জন্য কঠোর পরিশ্রম কর। তোমার কথা তোমার বন্ধনের মতো। যা করতে যাচ্ছ কেবল তাই বল। তাহলেই লোকজন তোমাকে সম্মানের সঙ্গে দেখবে। যদি তাদের নাও চেন কিংবা তাদের মতের সঙ্গে তোমার মত নাও মেলে তারপরও তুমি সম্মান পাবে।’
ট্রাম্পের স্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘আমার বাবা-মা আমার দৈনন্দিন জীবনে এ মূলবোধ ও নৈতিকতার প্রতিফলন দেখতে চেয়েছিলেন। আর এ শিক্ষা আমি আমার সন্তানকেও দিয়েছি। আমাদের উচিত এ মূল্যবোধ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা চাই বাচ্চারা শিখুক যে অর্জনের সীমাবদ্ধতাই স্বপ্নপূরণের সে লক্ষ্যে কাজ করার শক্তি।
২০০৮ সালে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন মিশেল ওবামা। তিনি বলেছিলেন,‘আমি আর বারাক চেয়েছি এ মূল্যবোধ অনুযায়ী জীবন সাজাতে তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে। কারণ আমরা চাই, আমাদের সন্তান এবং এ জাতির সকল সন্তান জানুক অর্জনের সীমাবদ্ধতাই পারে স্বপ্নপূরণের কাছাকাছি নিয়ে যেতে এবং সে লক্ষ্য পূরণে কাজ করতে।’ সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট
/এফইউ/বিএ/