মাতৃদুগ্ধের এটিএম ভারতে

nonameভারতের একটি হাসপাতালে সম্প্রতি মাতৃদুগ্ধের এটিএম চালু হয়েছে। সুস্থ মায়েদের কাছ থেকে যোগাড় করা দুধ এই এটিএমের মাধ্যমে বণ্টন করা হচ্ছে। বিশেষ এ এটিএমের পুরো নাম ‘আমুধম থাইপ্পল মাইয়াম’। তামিল ভাষায় যার অর্থ মাতৃদুগ্ধের কেন্দ্র।

পুদুচেরির প্রখ্যাত ‘জিপমার’ হাসপাতালে কম ওজন বা অপুষ্ট যেসব শিশু জন্ম নেয়, তাদের অতি প্রয়োজনীয় মাতৃদুগ্ধ পান করানোর জন্য এই প্রচেষ্টা শুরু করেছেন সেখানকার চিকিৎসকরা।

‘জিপমার’- এর কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র পারিজা বলছেন, প্রতিমাসে প্রায় ১৫০০ শিশু জন্মায় হাসপাতালে। এদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই কম ওজন নিয়ে জন্মায়। অনেক ক্ষেত্রে মায়েদের শারীরিক সমস্যার কারণে ওই অসুস্থ নবজাতকদের মাতৃদুগ্ধ দিতে পারেন না। অথচ মাতৃদুগ্ধ ওই নবজাতকদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়।

‘জিপমার’এর এই এটিএম-এ স্বেচ্ছায় যে কোনও মা-ই বাড়তি দুগ্ধ দান করতে পারেন। তবে দাতা মায়ের এইডস, হেপাটাইটিস প্রভৃতি মারণ রোগ আছে কী না, সেটা ভালো করে যাচাই করে নেওয়া হয়। সংগৃহীত মাতৃদুগ্ধ প্যাসচুরাইজ করে রেখে দেওয়া হচ্ছে।

কলকাতার শিশুরোগ ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ সুমিতা সাহা বলেন, মাতৃদুগ্ধ প্যাসচুরাইজ করার প্রয়োজন হয় না। পরিষ্কার বোতলে সাধারণ তাপমাত্রায় ৪ থেকে ৬ ঘন্টা তো রাখাই যায়। তবে ফ্রিজে রাখলে সেটা ২৪ ঘন্টা থেকে ৪ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। কি ধরণের ফ্রিজে রাখছেন, তার ওপরে নির্ভর করবে কতদিন তাজা থাকবে দুধ। কিন্তু একবার ফ্রিজ থেকে বের করে নিলে সেটা কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যবহার করে ফেলতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই কর্মরত মায়েদের জন্য মাতৃদুগ্ধ ব্যাংক রয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

/এমপি/