নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
রবিবার রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী ওই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে নেপালের সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালয়ান টাইমস। এর আগে একইদিনে পার্লামেন্টে কেপি ওলি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। অনাস্থাভোটের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
ওলি সংবিধানের ২৯৮ ধারার ৮(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ করেন বলে রাষ্ট্রপতির দফতর জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট দফতরের সহকারী মুখপাত্র কেশব প্রসাদ ঘিমিরে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সংবিধানের ২৯৮ ধারার ১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে নতুন সরকার গঠনের আগে পর্যন্ত ওলির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীসভাই প্রশাসনিক কাজের দায়িত্বে থাকবে।
দ্য হিমালয়ান টাইমসের খবরে বলা হয়, নিজের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ন হওয়ার আগেই ২৮৭ দিন দায়িত্ব পালনের মাথায় ওলি পদত্যাগের এই ঘোষণা দেন। তিনি সিপিএন (ইউএমএল)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পদত্যাগের ঘোষণায় ওলি বলেন, ‘পার্লামেন্টে আসার আগে আমি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেছি। আইন সভায় বাজেট পাস না হওয়ার ফলে আমি বুঝতে পারছি, সংসদের অধিকাংশ সদস্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমাকে সমর্থন করছেন না, তার কারণ যা-ই হোক না কেন। আমি আগেই বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর পদ আমার একমাত্র লক্ষ্য নয়। অবস্থার পরিবর্তনের কারণে জানাতে চাই, ইতোমধ্যে আমি প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছি এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছি।’
তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্টকে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন সংবিধানের ৩০৫ ধারা অনুসারে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, নতুন সরকার গঠনের সব বাধা দূর করার জন্য। আগামী দশ দিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠিত হবে বলে জানা গেছে।
গত দশ বছরের মধ্যে গঠিত অষ্টম সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত বছর অক্টোবরে দায়িত্ব নেন কেপি শর্মা। জোট সরকারে থাকা শরিক মাওবাদীরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করলে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয় সংসদে।
মাধেশি পিপলস রাইটস ফোরাম (ডেমোক্রেটিক) ও রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি তার বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব সমর্থনের সিদ্ধান্ত জানানোর পরই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাবটি উত্থাপন করে নেপালি কংগ্রেস এবং প্রচণ্ডের নেতৃত্বাধীন সিপিএন (মাওবাদী)। সূত্র: দ্য হিমালয়ান টাইমস।
/এসএ/