কাশ্মিরে সমাবেশের ডাক দেওয়ায় স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত নেতারা গ্রেফতার

কাশ্মিরের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত নেতারা কারফিউ ভঙ্গ করে দক্ষিণ কাশ্মিরের অনন্তনাগে সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার (২৫ জুলাই) ওই সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় হুরিয়ত (এম) নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে অনন্তনাগ যাওয়ার পথে গ্রেফতার করা হয় হুরিয়ত কনফারেন্স (জি) চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী শাহ গিলানিকেও। তাদের নিগীন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জেকেএলএফ (জম্মু-কাশ্মির লিবারেশন ফ্রন্ট) নেতা ইয়াসিন মালিককে গ্রেফতার করে কুঠিবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সৈয়দ আলী শাহ গিলানি

বেশ কিছুদিন ধরেই অশান্ত কাশ্মির। স্বাধীনতার দাবি আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর জোট হুরিয়ত কনফারেন্সের ওই তিন নেতা ১৮ দিন ধরে চলমান বিক্ষোভে হতাহত কাশ্মিরি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানাতে অনন্তনাগে এক সমাবেশের ডাক দেন। সেখানে লাল চকে একটি সমাবেশে যোগদানের জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানান তারা। বিক্ষোভ দমনে কাশ্মিরের কয়েকজন হুরিয়ত নেতাকে আগে থেকেই গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।

ইয়াসিন মালিক

জানা গেছে, পুলিশ হুরিয়ত নেতাদের গ্রেফতার করা ছাড়াও সাধারণ কাশ্মিরিদের অনন্তনাগে পৌঁছানো রুখতে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছে, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরসহ কাশ্মিরজুড়ে হাজার হাজার কাশ্মিরি কারফিউ ভঙ্গ করে রাস্তায় নামলে সোমবার দিনভর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

মিরওয়াইজ উমর ফারুক

উল্লেখ্য, ৮ জুলাই অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় সেনা ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর যৌথ অভিযানে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হন। বুরহানের নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে কাশ্মির জুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিক্ষুব্ধ কাশ্মিরিদের দাবি, বুরহানকে ‘ভুয়া এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভের মাত্রা বেড়ে গেলে কাশ্মিরের দশটি জেলা, এমনকি দূরবর্তী গ্রামেও কারফিউ জারি করা হয়।

বুরহানের মৃত্যুতে অগ্নিকুণ্ড কাশ্মির

চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। প্রতিদিনই সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে জনগণ। কাশ্মিরের বিভিন্ন অঞ্চলে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে স্থানীয় জনতা। বিচ্ছিন্ন রয়েছে টেলি যোগাযোগ। চলমান অচলাবস্থায় বন্ধ করা হয়েছে কাশ্মিরের একাধিক সংবাদপত্র।

সূত্র: কাশ্মির এজ, গ্রেটার কাশ্মির।

/এসএ/