আবারও প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন প্রচণ্ড, ভারতের সঙ্গে যোগসাজশ অস্বীকার

পুষ্প কমল দাহাল প্রচণ্ডকমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (মাওয়িস্ট-সেন্টার)-এর নেতা প্রধান পুষ্প কমল দাহাল প্রচণ্ড সাত বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। প্রাক্তন বিপ্লবী কেশব প্রধানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেপালের সিদ্ধান্ত সে নিজেই নেবে। তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পেছনে ভারত কিংবা কোনও বিদেশি শক্তির হাত নেই বলেও উল্লেখ করেন প্রচণ্ড।
সম্প্রতি কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (মাওয়িস্ট-সেন্টার)-এর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী ওলির বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের প্রস্তাব করে নেপালি কংগ্রেস। আস্থা ভোটে হেরে যাওয়া নিশ্চিত দেখে ওলি পদত্যাগ করেন। নেপালি কংগ্রেস প্রচণ্ডের দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (মাওয়িস্ট-সেন্টার)-এর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায়  প্রচণ্ড’র প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ সামনে আসে।
নেপালের রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে প্রচন্ড বলেন, ‘নেপাল এক দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখনও আমরা একটি সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছি। আমরা সবকিছুরই একটি গ্রহণযোগ্য উপসংহার টানতে চাইছি।’
তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পেছনে ভারতের হাত রয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রচণ্ড বলেন, ‘একদমই না।’ সদ্য প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা কেপি ওলি তার কাজকর্মের মধ্য দিয়ে নিজেই নিজের বিপদ ডেকে এনেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে, নিজের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পেছনে দেশের জনগণের সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান। প্রচণ্ড বলেন, “আমাদের কাছে, নেপাল এবং নেপালের জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়। এই অবস্থান থেকে আমাদের কেউ সরাতে পারবে না। ভারত, চীন বা অন্য কোনও দেশের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে নেপালি জনগণের জন্য যা ভালো, সেটাই আমাদের কাছে বিবেচ্য। একই সময়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের ‘বিশেষ’ সম্পর্কের বিষয়টিও বুঝতে হবে।”  
তার এবারের প্রধানমন্ত্রিত্ব যে সহজ হবে না, এক প্রশ্নের উত্তরে সে কথাও উল্লেখ করেন প্রচণ্ড। তিনি বলেন, ‘সংবিধান বাস্তবায়ন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জাতীয় পর্যায়ে এমন একটা আবহ তৈরি করতে চাই, যা মাধেসি, থারু এবং আদিবাসীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।’ ভূমিকম্প, শান্তি প্রক্রিয়া এবং নেপালের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সালে নেপালে মাওবাদী পার্টির সশস্ত্র বিদ্রোহ চলার সময়ে নেপালি কংগ্রেসের নেতা শের বাহাদুর দেওবা প্রচণ্ডের মাথার ওপর ৫০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। 

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

/এসএ/বিএ/