রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত নতুন সংবিধান সেনা-ক্ষমতার প্রসার ঘটাবে। ওই সংবিধান প্রণীত হলে আইনসভার ওপর এলিটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও মত দিয়েছেন তারা। নতুন সংবিধানে সেনা সদস্যদের জন্য আসন সংরক্ষিত রেখে পরিপূর্ণভাবে-নিয়োগকৃত একটি সিনেটের কথাও বলা হয়েছে। নির্বাচিত আইন প্রণেতাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পাবেন এ সিনেট সদস্যরা। তাছাড়া আদালতের ক্ষমতা বাড়ানোরও সুযোগ পাবেন তারা, অথচ থাইল্যান্ডের আদালতের বিরুদ্ধে আগে থেকেই রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। সে কারণে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন সংবিধানকে ‘বৈষম্য নিরসনমূলক’ বলা হলেও একে বিভাজনমূলক বলেই মনে করছেন সমালোচকরা।
গণভোটে ভোটারদের কাছে আরও একটি প্রশ্নে হ্যাঁ অথবা না জানতে চাওয়া হচ্ছে। সে প্রশ্নটি হলো- ‘প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের জন্য পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষের সঙ্গে যোগ দিতে উচ্চ কক্ষকেও অনুমতি দেওয়া যায় কিনা?’ অর্থাৎ, উচ্চ কক্ষ সিনেটের ২৫০ জন নিয়োগকৃত সদস্য নির্বাচিত আইন প্রণেতাদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের সুযোগ পাবেন কিনা তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। কেবল প্রধানমন্ত্রী বাছাই নয়, একই কায়দায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়াও শুরু করা যাবে। এর মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতাকেই একরকম পাকাপোক্ত করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নতুন এ সংবিধানের মাধ্যমে মত প্রকাশ ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হবে। তবে এর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাওয়া যায়নি। প্রচারণা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সংবিধানবিরোধীদের ওপর ধরপাকড় চালানো হয়। সংবিধানবিরোধীর ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন গণভোট আইনও প্রণয়ন করা হয়। এ আইেনর আওতায়, নতুন সংবিধানের খসড়া নিয়ে ‘কড়া’ কিংবা ‘মিথ্যে’ আলোচনা হলে তা অপরাধ বলে বিবেচনা করা হয়। সংবিধানের বিরোধিতা ও সমালোচনা করে যারা লিফলেট বিতরণ করবেন তাদেরকেও গ্রেফতারের সুযোগ রাখা হয় এ আইনের আওতায়। সমালোচকদের মতে, প্রচারণা চালানোর সুযোগ না দেওয়ায় থাই জনগণ এ সংবিধান সম্পর্কে খুব কমই জানে। আর তাই বিরোধীরা এ গণভোটকে একতরফা বলে উল্লেখ করেছে।
/এফইউ/বিএ/