প্রায় ১৬ বছর দীর্ঘ অনশনের পর বুধবার (১০ জুলাই) এসব কথা বলেছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইরোম শর্মিলা। তার বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থন না পেলে তিনি বিয়ের কথা ভাববেন।
দীর্ঘদিন অনশনের ফলে শর্মিলার শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। হাসপাতালে তা পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার অনশন ভঙ্গের দিনও ইরোম শর্মিলা জানিয়েছিলেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে তার নতুন জীবনের শুরু হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনে জনগণের সমর্থন না পেলে তিনি বিয়ের কথা ভাববেন। সেদিন সকালে কারাগারের হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন ইরম। অনশন করে আত্মহত্যা চেষ্টার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সেখানে তাকে টিউব দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে খাওয়ানো হতো। মঙ্গলবারই আদালত ইরোম শর্মিলাকে জামিন দেন। অবশ্য পাশে তার প্রেমিক ব্রিটিশ নাগরিক ডেসমন্ড কুটিনহোকে দেখা যায়নি।
সম্প্রতি অনশন ভঙ্গের পর শর্মিলা জানিয়েছিলেন, তিনি রাজনীতি করতে চান, তিনি সংসার করতে চান।
আমামী বছর বিধান সভা নির্বাচনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসের ওকরাম ইবোবি সিং-এর নির্বাচনি এলাকা থোবাল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াই শুরু করবেন শর্মিলা।
তবে শর্মিলার অনশনের সমর্থনে গড়ে ওঠা সংগঠন শর্মিলা কানবা লুপের সদস্যদের অভিযোগ, আফস্পা-বিরোধী আন্দোলনকে দু্র্বল করতে ও শর্মিলার মনকে বিক্ষিপ্ত করতে রাজনীতিতে প্রবেশের বিষয়ে সরকার মগজ-ধোলাই করছে।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে মণিপুরের মালোম গ্রামের বাসস্ট্যান্ডে সন্ত্রাসী সন্দেহে দশজন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে আসাম রাইফেলসের জওয়ানদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আফস্পা কার্যকর থাকায় ওই সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনও তদন্তও হয়নি। এর প্রতিবাদে ও আফস্পা আইন প্রত্যাহারের দাবিতে অনশন শুরু করেন ইরোম শর্মিলা। প্রথমবার তিনি গ্রেফতার হন ২০০৬ সালে। জেল হেফাজতে হাসপাতালে থাকা শর্মিলাকে প্রতি ১৫ দিন পরপর আদালতে হাজিরা দিতে হয়। ১৬ বছরের দীর্ঘ এই অনশনের কালে ইরোম শর্মিলাকে নল দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় খাবার দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এসএ/