সমগ্র পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চাইলেন এমকিউএম প্রধান আলতাফ

এমকিউএম প্রধান আলতাফ হোসেনমুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম)-এর প্রধান আলতাফ হোসেন সেনাবাহিনী ও  উচ্চপদস্থ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষসহ সমগ্র পাকিস্তানের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বক্তব্য ও সংবাদমাধ্যমে হামলার উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর মানসিক স্বাস্থ্যের দোহায় দিয়ে ক্ষমা চান আলতাফ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকার ও সেনাবাহিনীর গুম ও বিচারবহির্ভুত ধরপাকড়ের প্রতিবাদে অনশন কর্মসূচী শুরু করে এমকিউএম নেতা-কর্মীরা। করাচি প্রেসক্লাবে বিক্ষোভকালে দলীয় প্রধান আলতাফ হোসেন সরকারের সমালোচনা করার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানকে ‘পুরো বিশ্বের জন্য ক্যান্সার’ বলেও স্লোগান দেন বলে অভিযোগ ওঠে। তার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে হামলার উসকানি তৈরীর অভিযোগও করা হয়।
এক পর্যায়ে সোমবার এআরওয়াই-নিউজে হামলা চালায় এমকিউএম কর্মীরা। সে সময় তারা ‘বিতর্কিত’ স্লোগানও দেয়। এরপর এমকিউএম-এর সব অফিস বন্ধ করে দেয় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। রাতেই ফারুক সাত্তার, খাজা ইজহার, আমীর লিয়াকতসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী এমকিউএম নেতা-কর্মীদের আটক করে সামরিক বাহিনী। তাদের দলীয় প্রধান আলতাফ হোসেনের ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য এবং সংবাদমাধ্যমে হামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে।
রাতভর আটক থাকার পর মঙ্গলবার মুক্তি পান সাত্তার ও অন্যান্য নেতারা। আর তারপরই দলীয় প্রধান সমগ্র পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চাইলেন।

দলীয় মুখপাত্র ওয়াসায় জলিলের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে সেনাপ্রধান রাহীল শরীফ এবং ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) র‍্যাঞ্জারস মেজর-জেনারেল বিলাল আকবরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এমকিউএম প্রধান আলতাফ হোসেন। আলতাফ বলেন, ‘হৃদয়ের গভীর থেকে আমি আমার বক্তব্যের জন্য জেনারেল রাহীল, ডিজি র‍্যাঞ্জারসসহ সমগ্র পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলাম বিচারবহির্ভুর আটকের বিষয়ে, আর আমার কর্মীরা অনশন কর্মসূচী চালাচ্ছিল। এমন অবস্থায় আমি ওই মন্তব্য করেছি।’

‘একজন পাকিস্তানি হিসেবে, আমি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সেনাবাহিনী, আইএসআই, পদস্থ কর্তৃপক্ষ, রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ পাকিস্তানের সমগ্র জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, এমন বক্তব্য আর কখনওই আমি দেবো না।’ 

তবে আলতাফ হোসেনের বক্তব্যের বিপরীতে তার দলেরই জ্যেষ্ঠ নেতা ফারুক সাত্তার বলেন, ‘যদি মানসিক চাপ থেকেই তিনি (আলতাফ) এমন কথা বলে থাকেন, তাহলে আগে তার চিকিৎসা করানো দরকার। আলতাফ হোসেনের জন্য পুরো দল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’ তিনি সুস্থ্য না হওয়া পর্যন্ত দলীয় কার্যক্রম থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দেন এই নেতা।

দলীয় প্রধান ক্ষমা চাইলেও সহিংসতার ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলেই উল্লেখ করছেন এমকিউএম নেতারা। এমকিউএম নেতা আলি রাজা আবিদি এক টুইট বার্তায় দাবি করেছেন, ‘গত তিন বছর ধরে অসহিংস বিক্ষোভ করে আসছে এমকিউএম। ফাওয়ারা চক এলাকায় আগে থেকে উপস্থিত থাকা মুখোশধারীরা এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে থাকতে পারে।’

সূত্র: ডন।

/এসএ/বিএ/