প্রজেক্ট ৭৫ নামের এক প্রকল্পের আওতায় ফরাসি কোম্পানি ডিসিএনএস-এর সহযোগিতায় ৬টি স্করপিন-মানের সাবমেরিন তৈরি করছে ভারত। এ নিয়ে ২০০৫ সালে ওই ফরাসি কোম্পানির সঙ্গে ভারতের সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়। মুম্বাইয়ের মাজাগাঁও ডকস লিমিটেড ডিডিসিএনএস এর হয়ে ভারতে সাবমেরিনগুলো নির্মাণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
স্করপিনের ওইসব তথ্য লেখা হয়েছিল ফ্রান্সে। আগামী কয়েক দশকের জন্য এই স্করপিন সাবমেরিন ভারতীয় নৌবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়ার কথা ছিল। দ্য অস্ট্রেলিয়ান-এর খবরে দাবি করা হচ্ছে, এই নথিগুলো তৃতীয় পক্ষের কেউ ফাঁস করে আরেকটি ফরাসি কোম্পানিকে পাঠিয়েছিল। ভারত বলছে, তাদের কাছে থেকে এই নথি ফাঁস হয়নি।
ফাঁস হওয়া নথিতে ওই সাবমেরিনগুলোর বিস্তারিত রয়েছে। এগুলোর সক্ষমতা কেমন, এগুলো সমন্বিতভাবে কী করে কাজ করবে তার সবকিছু বলা ছিল নথিগুলোতে। নথির ৪ হাজার ৪৫৭ পাতায় ছিল যুদ্ধজাহাজের পানির তলার সেন্সর সম্পর্কে তথ্য, ৪ হাজার ২০৯ পাতায় ছিল পানির উপরের সেন্সর সম্পর্কিত তথ্য, ৪ হাজার ৩০১ পাতায় ছিল কমব্যাট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সম্পর্কিত তথ্য এবং ৪৯৩ পাতায় টর্পেডো লঞ্চ সংক্রান্ত তথ্য ছিল। এছাড়া ৬ হাজার ৮৪১ পাতা জুড়ে এই তথ্য ফাঁসের কোনও সুযোগ নেই। ছিল যুদ্ধজাহাজের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ২ হাজার ১৩৮ পাতা জুড়ে নেভিগেশন সিস্টেমের বর্ণনা ছিল।
নৌসেনার যুদ্ধের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে সাবমেরিনের। বিশ্বের অন্যতম প্রতিরক্ষা প্রকল্পের অংশ হিসেবে ৩শ’ কোটি ডলার খরচে ভারত এই সাবমেরিন তৈরি করছিল। যা শত্রুপক্ষকে জবাব দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর কৌশল অন্যের হাতে চলে যাওয়া সেনাবাহিনীর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। সাবমেরিনটির কোনখানে বসে কথা বললে, শত্রুপক্ষ খবর পাবে না, সেই তথ্য ফাঁস হয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। তাই চিন্তায় পড়েছেন নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নথি ফাঁস সম্পর্কে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর জানিয়েছেন, হ্যাক করে ফাঁস করা হয়েছে ওই তথ্য।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ১২টি সাবমেরিন নকশা তৈরীর উদ্দেশ্যে ডিসিএনএস নামের কোম্পটানির সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া চুক্তির যোগাযোগ থাকতে পারে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ১২টি সাবমেরিন নকশা নির্মাণের চুক্তি পেয়েছে ওই ফরাসী সংস্থা। সাবমেরিনের জলের নিচের সেন্সর, জলের ওপরের সেন্সর, যুদ্ধ ব্যবস্থাপনার সিস্টেম, টর্পেডো লঞ্চ সিস্টেম এবং তার কৌশল, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নেভিগেশন সিস্টেম সবকিছুরই নির্মাণের দায়িত্বে ওই ফরাসী সংস্থার। সেখান থেকেই তথ্য ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
জলের তলায় গোপনে নজরদারি চালায় এই জাহাজ। এর উপস্থিতি টের পাওয়া খুবই দুঃসাধ্য। কিন্তু এর গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ্যে চলে আসায় চিন্তায় কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পর্রীকর নৌসেনার কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সম্ভবত বিদেশ থেকেই ফাঁস হয়েছে স্করপিনের নথি। দেশ থেকে তা হয়নি বলেই মনে করছেন তিনি। তাঁর অনুমান, হ্যাকিং-এর পর তা লিক হয়। নৌসেনার তরফেও নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে,এদেশ থেকে কোনও টেকনিক্যাল তথ্য লিক হয়নি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, চীন ও পাকিস্তানে ব্যবহারের জন্য সাবমেরিনগুলোকে ব্যবহার করার কথা থাকলেও এগুলোর তথ্য ফাঁস হওয়ায় সেই সুযোগ আর রইল না।
/এফইউ/বিএ/