উল্লেখ্য,গত ৮ জুলাই কাশ্মিরের অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় সেনা ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর যৌথ অভিযানে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর কাশ্মিরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ কাশ্মিরিদের দাবি, বুরহানকে ‘ভুয়া এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ দেখিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন মানুষ। আর বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। এর মধ্য দিয়ে দেড় মাস ধরে কাশ্মিরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। বিক্ষোভ দমাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ছররা গুলিও, যার কারণে এরইমধ্যে অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে ছররা গুলির ব্যবহার কতটা যুক্তিযুক্ত।
টাইমস অব ইন্ডিযার খবরে বলা হয়, এ ব্যাপারে মতামত দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিশেষজ্ঞ প্যানেল নিয়োগ করেছে, তারা নবনির্মিত পাভা শেলস ব্যবহারের পক্ষে। ছররার বদলে এতে ব্যবহার হবে লঙ্কার গুঁড়ো। বড় কোনও ক্ষতি না হলেও যার ওপর এই লঙ্কার গুঁড়ো ছোড়া হবে, সে বেশ কিছুক্ষণ নড়াচড়া করার অবস্থায় থাকবে না।
‘পাভা’ শব্দটি এসেছে পিলারগনিক অ্যাসিড ভ্যানিলাইল অ্যামাইড থেকে, যার আরেক নাম ননিভামাইড। সহজ কথায়, শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের দাবি, এই শেল একবার ছুড়ে দিলে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়ার কারণে বিক্ষোভকারীরা আর নড়াচড়া করার অবস্থায় থাকবে না। সেদিক থেকে এই লঙ্কার গুঁড়োকে কাঁদানে গ্যাস বা গোলমরিচের গুঁড়োর থেকে অনেক বেশি কার্যকরী বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা কম বলেই দাবি করা হয়ে থাকে।
এর আগে বৃহস্পতিবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং শ্রীনগরে বলেন, বিক্ষোভকারীদের দীর্ঘকালীন ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ছররা গুলির বদলে অন্য কোনও অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছে। ক’দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ প্যানেল রিপোর্ট দেবে বলে জানান তিনি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
/এফইউ/