উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে নিন্দুকের কাতারে ‘মিত্র’ চীন

স্কাড ক্ষেপণাস্ত্রপিয়ং ইয়ং এর ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে এবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাকি ১৪ সদস্যের সঙ্গে যোগ দিলো উত্তর কোরিয়ার মিত্র দেশ চীন। আর এর মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সর্বসম্মতভাবে বিবৃতি প্রকাশে সক্ষম হলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী পরমাণু ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র উন্নয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে উত্তর কোরিয়া। তবে দক্ষিণে থাড নামে পরিচিত উচ্চ প্রযুক্তির মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থা মোতায়েন নিয়ে গত জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে দেশটি। দ. কোরিয়ায় উচ্চতর ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণার বিপরীতে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু করে উ. কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিপরীতে একে তারা যোগ্য জবাব বলে মনে করে। সর্বশেষ বুধবার (২৪ আগস্ট) সিনপোর কাছাকাছি অবস্থিত সাগর এলাকায় একটি সাবমেরিন থেকে উত্তর কোরিয়া কেএন-১১ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এটিকে ‘বড় রকমের সাফল্য’ বলে উল্লেখ করেন। উন সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে পারমাণবিক সামরিক শক্তির নিরিখে ‘সামনের সারিতে’ চলে আসবে উত্তর কোরিয়া।
এমন প্রেক্ষাপটে সর্বসম্মতিক্রমে বিবৃতি প্রকাশ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিশোধ। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কঠোর নিন্দা জানানোর পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ নেওয়ার ব্যাপারে একমত হয় নিরাপত্তা পরিষদ।

উত্তর কোরিয়া সর্বশেষ সাবমেরিন থেকে যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়েছে তা ৫০০ কিলোমিটার উড়ে গিয়ে জাপান সাগরে পড়ে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দাবি,জাপানের বিমান প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্রটি পড়েছে। একে উত্তর কোরিয়ার ‘বেপরোয়া কর্মকাণ্ড’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড তার দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিজনক।

সাবমেরিনের গতিবিধি শনাক্ত করা কঠিন। আর সেকারণে সাবমেরিন থেকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়াকে উদ্বেগজনক বলে মনে করে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো। 

এ পর্যন্ত চারটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। চলতি বছরের জানুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বোমা পরীক্ষার বিপরীতে ২ মার্চ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে উত্তর কোরিয়ার ওপর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই নিষেধাজ্ঞায় প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ায় যাওয়া বা দেশটি থেকে আসা সব কার্গো জাতিসংঘের সদস্য দেশ কর্তৃক তল্লাশি করার বিধান রাখা হয়। সেই সাথে নতুন করে ১৬ জন ব্যক্তি এবং ১২টি সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপ করা চলমান অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাকে বিস্তৃত করে দেশটির কাছে ক্ষুদ্র আকারের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সূত্র: বিবিসি

/এফইউ/