পাকিস্তানে সেনা শাসনের অপরিহার্যতার পক্ষে মোশাররফের সাফাই

nonameপাকিস্তানে সামরিক শাসনের অপরিহার্যতার পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে সাবেক সেনা শাসক পারভেজ মোরাররফ মন্তব্য করেছেন, দেশের সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে মানানসই হয়, এমন কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সেখানে জারি করা যায়নি। সে কারণেই বারবার সেনাবাহিনীকে শাসন ক্ষমতা নিতে হয়েছে।
ওয়াশিংটন আইডিয়াস ফোরামে বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে করা এক প্রতিবেদনে সাবেক পাকিস্তানি জেনারেলের এই মন্তব্যের কথা জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। এতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর রাজনীতিতে আসা ঠেকাতে দেশের সমাজ ব্যবস্থার উপযোগী রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দেন মোশাররফ।
সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের পর প্রায় এক দশক পাকিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা মুশাররফ বলছেন, পাকিস্তানের ‘সহজাত দুর্বলতা’ হচ্ছে, সেখানকার গণতন্ত্রকে দেশের পরিবেশ উপযোগী আকারে গড়ে তোলা যায়নি। তিনি বলেন, ‘সেখানে (পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়) কোনো ভারসাম্য নেই। সংবিধান সেই ভারসাম্য দেয় না। তাই সামরিক বাহিনী গণতান্ত্রিক পরিবেশে লাগাম টানতে বাধ্য হয়, বিশেষত যখন শাসনকাজে বিশৃঙ্খলা চলে এবং পাকিস্তানের সব আর্থসামাজিক সূচকগুলো নামতে থাকে।’
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জনগণ ব্যাপকভাবে দেশের সেনাপ্রধানের কাছে ছুটে যায় দাবি করে সাবেক এই সেনাশাসক বলেন, ‘এভাবেই সেনাবাহিনী (ক্ষমতায়) জড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানের জনগণ সেনাবাহিনীকে ভালোবাসে এবং তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করে।’
পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলেও মন্তব্য করেন ১৯৯৯ সালে এক সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করা মুশাররফ। তিনি বলেন, ‘মূলত তথাকথিত গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারগুলোর বিশৃঙ্খল শাসনকার্যের কারণে দেশ পরিচালনায় সেনাবাহিনী অগ্রবর্তী ভূমিকা পালন করেছে।’ এসব কারণে পাকিস্তানে সেনা শাসন আসে এবং সেনাবাহিনী উচ্চ পর্যায়ের ক্ষমতা ভোগ করে বলেও মন্তব্য করেন পারভেজ মুশাররফ।

বর্তমানে দেশের বাইরে বসবাস করা সাবেক এই সেনা শাসক মনে করেন, পাকিস্তানকে নির্দেশনা দেওয়ার মতো করে দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হলে এমন পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসা যেতে পারে। ‘আমাদের হয়ত ভারসাম্য এনে, পাকিস্তানকে নির্দেশনা দেওয়ার মতো করে দেশের রাজনীতিক কাঠামো পুনর্গঠন করতে হতে পারে, যাতে শাসন কাজে বিশৃঙ্খলা জায়গা করে নিতে না পারে এবং সেনাবাহিনী রাজনীতিতে আসতে না পারে।’ বলেন তিনি। 

প্রায় এক দশক দেশ শাসন করা পারভেজ মুশাররফ ২০০৮ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান। চার বছর লন্ডন ও দুবাইয়ে কাটিয়ে ২০১৩ সালে নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে বেশ কয়েকটি মামলার মুখে পড়েন তিনি। তবে অযোগ্য ঘোষিত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা এবং ক্ষমতায় থাকাকালে বেলুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী নেতা আকবার বাগতি হত্যাকাণ্ড ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের মামলায় বিচার শুরুর পর ফের দেশ ছাড়েন সাবেক এই সেনাশাসক।

/বিএ/