দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দেশ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের উরিতে সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ওই হামলার প্রতিশোধ নিতে ২৮ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটায় সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ভারত। উভয় পক্ষে নিহত হন দুই ডজনেরও বেশি সেনাসদস্য। এতে বিদ্যমান উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষ থেকে পরস্পরের প্রতি হুংকার ছুড়লেও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। কারণ ব্যাপক আকারে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তারাই হবেন এর প্রথম শিকার।
২৮ সেপ্টেম্বরের পরও সীমান্তে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই দেশের সেনাপ্রধানের সুরেই যুদ্ধের আভাস পাওয়া গেছে। পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে ভারতের সম্ভাব্য সব রকমের আঘাতের সমুচিত জবাব দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। বিপরীতে পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধপ্রস্তুতির আলামত নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান। এমন বাস্তবতায় সীমান্তজুড়ে ভয় আর আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে জম্মু-কাশ্মিরের বাসিন্দাদের।
প্রশ্ন যখন নিজের আর পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচানোর; তখন আর ঝুঁকি নিতে রাজি নন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। লোকজন নিজেদের মতো করে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানের সন্ধান করছেন। যে যার মতো করে সম্ভাব্য যুদ্ধের বাস্তবতা থেকে পালিয়ে বেড়াতে চাইছেন। এভাবে জম্মু-কাশ্মিরের সীমান্ত এলাকা যেন পরিণত হয়েছে এক ভয়ানক নিস্তব্ধ জনপদে। বিশেষ করে ২৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় ভূখণ্ড লক্ষ্য করে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার পর এমন আতঙ্ক আরও চেপে বসেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
আতঙ্ক আর উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট জম্মুর আখনোর এলাকার বাসিন্দা সুরত সিং-এর কথায়। তার ভাষায়, ‘আমরা অতীতে দেখেছি পাকিস্তান কিভাবে আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। যদিও গতরাত থেকে তাদের গুলিবর্ষণ বন্ধ রয়েছে কিন্তু আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাই না।’
বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যেই রবিবার মধ্যরাতে জম্মু ও কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরের ৫০ কিলোমিটার দূরে বারামুল্লাহ শহরে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের দুটি ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়। সোমবার সকালেও নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে এই সময়টা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগামী কিছুদিনের মধ্যে ফসলের পরিচর্যা করা না হলে তাদের শস্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জম্মুর খৌর তেহসিল এলাকার পার্গওয়াল গ্রামের বাসিন্দা দয়া রাম। তিনি বলেন, ‘এখানে লোকজন উদ্বিগ্ন। গতকাল পাকিস্তান আমাদের এখানে বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। এ ঘটনার পর আমরা পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অধিকতর নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি জানান, যেসব পুরুষ সদস্যরা এখনও এলাকায় রয়ে গেছেন তারা দিনের বেলায় নিজেদের মতো করে থাকলেও রাতের অবস্থা ভিন্ন। জীবন বাঁচাতে রাতের বেলায় সরকারি ক্যাম্পে আশ্রয় নেন তারা।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা প্রেম সিং বলেন, ‘আমাদের নিজেদের গৃহপালিত প্রাণীদের যত্ন নিতে হয়। তাই দিনের বেলায় আমরা গ্রামে ফিরে আসি। রাতে আবার ক্যাম্পে ফিরে যাই। পরিবারের অন্য সদস্যদের জম্মু শহরে আত্মীয়দের বাসায় রেখে এসেছি।
/এমপি/বিএ/