কাশ্মির প্রশ্নে কোনও আলোচনায় যাবে না নিরাপত্তা পরিষদ





nonameবিতর্কিত কাশ্মির সীমান্ত নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে সঙ্কট চলছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তা নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতিসংঘের রুশ দূত এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট ভিটালি চারকিন। এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন তিনি।
কাশ্মির প্রশ্নে ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা নিয়ে জাতিসংঘ কী করবে; এমন এক প্রশ্নের জবাবে তক্ষণাৎ চারকিন বলেন ‘সেসব নিয়ে কোনও কথা আমরা বলতে চাই না। কোনও কথা নয়। সেসব আলোচনার কোনও অবকাশ নেই।’
এই অক্টোবর পর্যন্তই ৫ স্থায়ী ও ১০ অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসবে দায়িত্ব পালন করবেন চারকিন। নভেম্বরে দায়িত্ব নেবেন নতুন প্রেুসিডেন্ট।।
কেন ভারত-পাস্তিান প্রসঙ্গে নীরব থাকতে চাইছেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চারকিন বলেন, কথা না বলার কারণ, ‘আমি এই সংস্থার প্রেসিডেন্ট। নিরাপত্তা পরিষদ এ নিয়ে কোনও আলোচনা করবে না।’
এরআগে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের একজন উপ-মুখপাত্র ফারহান হকের কাছে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, সম্প্রতি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ পাকিস্তানকে কাশ্মির নিয়ে নাক গলাতে মানা করেছেন; এ ব্যাপারে জাতিসংঘের অবস্থান কী।
জবাবে মুনের সেই মুখপাত্র বলেছিলেন, ‘আমরা এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছি। সেটাই আমাদের অবস্থান’। তার কাছেও কাশ্মির প্রশ্নে জাতিসংঘের নীরবতার প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট চারকিনের মতো করে, তিনিও জাতিসংঘের বিবৃতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘জাতিসংঘে ওঠা সব প্রসঙ্গ ধরেই যে আলোচনা হয়, এমন নয়। তবে ক’দিন আগেই (শুক্রবার) আমরা একটি বিবৃতি দিয়েছি।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কাশ্মির প্রশ্নে জাতিসংঘের অবস্থান জানিয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেই বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান অস্থিরতা কমাতে মধ্যস্ততা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানালে তারই প্রেক্ষিতে শুক্রবার এ কথা জানান মুন।
মুন সে সময় বলেন, ‘এ বিষয়ে উভয় পক্ষেরই সর্বোচ্চ সংযম থাকতে হবে এবং পরিস্থিতির উন্নতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’ কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সংলাপের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের এই সংকট নিরসন করতে হবে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
ক’দিন আগে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিদর্শনে একটি টিম পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিল ইউনাইটেড ন্যাশনস হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি)। তবে এ ব্যাপারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাটির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ভারত।
এরআগে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের কাছে ‘কাশ্মিরে সংঘটিত ভারতের রাষ্ট্রীয় সহিংসতার দলিল’ হস্তান্তর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। সাধারণ অধিবেশ শেষে দেশে ফেরার আগ মুহূর্তে তিনি ‘কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণসমেত নথিপত্র’ বান কি-মুনের হাতে তুলে দেন। তবে নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মির প্রসঙ্গে আলোচনা হবে না; এমন সিদ্ধান্ত কাশ্মির প্রশ্নে পাকিসন্তানি কূটনীতির ব্যর্থতাকেই হাজির করে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ইন্ডিয়ান এক্সরেপ্রস, টাইমস অব ইন্ডিয়া
/বিএ/