উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্বের সবথেকে দীর্ঘ সময়ের রাজতন্ত্র ধরে রাখা থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবল আদুল্যাদেজ-এর জীবনাবসান হয়। এদিন রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সিরিরাজ হাসপাতালে রাজা মহোদয়ের জীবনাবসান হয়েছে।’ স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৫২ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয় বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। এর আগে গত রবিবারই জানানো হয়েছিল তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নেই। রাজপ্রাসাদের বিবৃতি আসার কিছুক্ষণ পরই থাই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এক বছরের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৪ অক্টোবর (শুক্রবার) থেকে এক মাসের জন্য সরকারি অফিস ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার কথাও বলা হয়। আর এ শোকে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সামিল হতে জনগণের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়।
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রেম নিনসুলানন্দা রাজ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চ্যান ওঁচা ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দেখা করেন। পরে রাতে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রায়ুথ থাইবাসীকে আশ্বস্ত করেন যেন তারা রাজার উত্তরসূরী নিয়ে চিন্তা না করেন। তিনি জানান, ৬৪ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্স জনগণকে চিন্তা না করার কিংবা দ্বিধাগ্রস্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ক্রাউন প্রিন্স বলেছেন, এ মুহূর্তে সবাই শোকাহত অবস্থায় আছে এবং তিনিও শোকাহত। আর সেকারণে, এ শোকের সময় পার না হওয়া পর্যন্ত সবার অপেক্ষা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
থাই রাজপরিবারের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতেই কয়েক মাস সময় লেগে যায়। ২০০৮ সালে রাজা ভূমিবলের বোন যখন মারা যান তখনও ১০০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছিল। মৃত্যুর দশ মাস পর তার সৎকার করা হয়। থাইল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী, শোককালীন সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী রাজার অভিষেক হয় না।
১৯২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজে জন্মগ্রহণ করেন ভূমিবল। ১৯৪৬ সালে ভাইয়ের মৃত্যুর পর রাজা ভূমিবল মাত্র ১৮ বছর বয়সে থাইল্যান্ডের সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৭৮২ সাল থেকে ক্ষমতাসীন ও থাইল্যান্ডের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী চক্রি রাজবংশের নবম রাজা তিনি। থাইল্যান্ডের অধিকাংশ নাগরিকই তাকে মহারাজা হিসেবে সম্বোধন করে থাকেন। চলতি বছরের জুনে তার সিংহাসনে আরোহনের ৭০তম বার্ষিকী পালন করা হয়। সূত্র: বিবিসি, ব্যাংকক পোস্ট
/এফইউ/