২০১৪ সালের জুন মাসে জঙ্গিদের হাতে মসুল নগরীর পতন হয়।ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই নগরী আইএসের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য গত কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি চলছিল। সোমবার ভোরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি।
গার্ডিয়ানের খবরে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদুলু পোস্টকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, চলমান অভিযানে তেরসেলি, বাশারা, লিটল বেডেন্স,. কেভারভি, বাস্লিলান এবং শেখ আমির নামের ৭টি গ্রামের দখল নিতে সমর্থ হয়েছে কুর্দি বাহিনী।
এদিকে বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, মসুলের মূল রাস্তার সঙ্গে যোগস্থাপনকারী ইরবিলের দখল নিতে সমর্থ হয়েছে। এটি ইরাকি কুর্দিস্থানের স্থানীয় রাজধানী।
আনাদুলু পোস্টের খবরে কুর্দি বাহিণীর অভিযানে ২ আত্মঘাতী আইএস সদস্যকে হত্যার দাবিও করা হয়েছে। তবে এ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানাতে সর্মথ হয়নি তারা।
ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ শহর মসুলকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটসহ ইরাকি ও কুর্দি বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করতে মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের পুরনো কৌশল নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট)। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান খবর দিয়েছে, শহর ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওই জঙ্গি সংগঠন। নগরীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে তারা। পাশাপাশি যারা ইতোমধ্যেই পালিয়েছে, তাদের বাড়িঘর গুড়িয়ে দিয়েছে আইএস জঙ্গিরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এদিকে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে জনসাধারণকে আইএস অধ্যূষিত অঞ্চল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে ইরাকের সেনাবাহিনী ও দেশটির কুর্দিপন্থী গেরিলাদের সঙ্গে ওই হামলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মার্কিন বিমান হামলার হাত থেকে রক্ষা পেতে এরইমধ্যে আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়েছে আইএস জঙ্গিরা। আবু উমর নামে মসুলের এক বাসিন্দার বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানিয়েছেন, রবিবার রাতে ৬ঘণ্টা হেঁটে মসুল ত্যাগে সমর্থ হয়েছে তার ৬ সদস্য বিশিষ্ট পরিবার।
তুরস্কের সেনাসূত্রের বরাত দিয়ে আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ১৫০০ ইরাকি সেনাকে এরইমধ্যে অভিযানে নামানো হয়েছে।
/বিএ/