রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকে এখন ঢাকা শহরের লোকসংখ্যা চারগুণ হয়ে প্রায় ২ কোটিতে পৌঁছেছে। ২০৫০ সাল নাগাদ এ লোকসংখ্যা সাড়ে তিন কোটির বেশি হতে পারে বলে আভাস রয়েছে। এদিকে গ্রাম্য দরিদ্রের সংখ্যার তুলনায় শহুরে দরিদ্রের সংখ্যা দিন বাড়ছে। ১৯৯১ থেকে ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে শহুরে দরিদ্রের সংখ্যা ৬০ লাখ থেকে বেড়ে ৮০ লাখ হয়েছে। একইসময়ে গ্রাম্য দরিদ্রের সংখ্যায় বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। এ সময়ের মধ্যে গ্রাম্য দরিদ্রের সংখ্যা ৫ কোটি ৫০ লাখ থেকে কমে ৪ কোটি ৬০ লাখ হয়েছে।
২০১৬ সালে বিশ্বব্যাংক পরিচালিত আরবান স্লাম সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে বস্তিবাসীদের প্রতি ১০ জনে ৯ জনের জন্ম ঢাকার বাইরে। এর মধ্যে এক পঞ্চমাংশ দরিদ্র। ২০১৪ সালের এক জনগননায় দেখা গেছে, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণের বস্তিগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে নির্মিত। অবশ্য, নগর বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর দাবি, এ সংখ্যা ৮০-৯০ শতাংশ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের ট্রেজারার সালমা.এ.শাফি বলেন সরকারি জমিতে গড়ে তোলা বস্তির তুলনায় ব্যক্তিগত মালিকানার বস্তিতে নিরাপত্তা বেশি নেই। মালিক আর ডেভেলপারের খেয়াল খুশিমতো ভাড়া বাড়ানো হয় সেখানে।
নদী ভাঙ্গনের কারণে ঘর-বাড়ি হারিয়ে ঢাকার আসেন ভোলার বাসিন্দা আবুল কালাম। বর্তমানে মিরপুরের একটি বস্তিতে পরিবারসমেত থাকেন তিনি। কাজের উৎসের কাছাকাছি থাকার আশায় পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তার জলাঞ্জলি দিতে হচ্ছে তাকে। তিনি জানান, তার গড় দৈনিক আয় ৬ ডলার বা সাড়ে চারশো টাকার মতো। কিন্তু সবসময় কাজ থাকে না। কাজ সন্ধান করে যেতে হয়।
শহুরে দরিদ্রদের পরামর্শ প্রদানকারী সংগঠন কোয়ালিশনের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রেবেকা সান-ইয়াত ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বস্তি উচ্ছেদ করা হচ্ছে, কিন্তু বস্তিবাসীরা থেকেই যাচ্ছেন। তারা ঢাকা ছাড়ছেন না।’
নগর এলাকায় ব্যক্তিগত বস্তির উত্থানের জন্য কেন্দ্রীভূত উন্নয়ন পরিকল্পনাকে দায়ী করেছেন তিনি। তার মতে, শহর এলাকাভিত্তিক সেবা ও শিল্পকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে কেন্দ্রীভূত উন্নয়ন। রেবেকা বলেন, ‘শহরগুলোতে আয়ের উৎস রয়েছে। আপনি যদি শহরে অবকাঠামো তৈরি করেন তবে কিভাবে ভাবতে পারেন যে গ্রামের লোকজন শহরে আসবে না? যদি গ্রামে আয়ের উৎস এবং মিল-কারখানা থাকতো তবে লোকজনকে ঢাকায় আসতে হতো না।’ অবশ্য বস্তিবাসীরা তাদের জায়গায় ফিরে গেলে ঢাকা অচল হয়ে পড়তো বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
/এফইউ/বিএ/