আদালতেই কেঁদে ফেললেন জাকার্তার গভর্নর, জাতিগত উত্তেজনার আশঙ্কা

nonameবিগত ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনও বিদেশি বংশোদ্ভূত ইন্দোনেশিয়ান হিসেবে জাকার্তার গভর্নর হয়েছিলেন তিনি। বাসুকি চাহাইয়া এহক পুরনামা নামের চীনা বংশোদ্ভূত সেই গভর্নর ব্লাসফেমি আইনের কবলে পড়ে এখন আদালতের কাঠগড়ায়। সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি খবর দিয়েছে, এ ঘটনায় আদালতে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এদিকে ব্লাসফেমি আইনে জাকার্তা গভর্নরের বিচার শুরুর ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ায় জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জাকার্তাজুড়ে নেওয়া কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জাকার্তার গভর্নর বাসুকি চাহাইয়া এহক পুরনামাকে ব্লাসফেমি আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গভর্নরের দাবি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইসলামকে ব্যবহার করছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ইন্দোনেশিয়ায় গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এহক হচ্ছেন জাকার্তার প্রথম বিদেশি বংশোদ্ভূত কোনও গভর্নর।  চীনা বংশোদ্ভুত এহকের বিরুদ্ধে কোরআন অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এহকের বিচার শুরুর প্রথম দিনেই আদালতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গভর্নর এহক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি দাবি করেছেন,  ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কোরানের একটি আয়াতকে ব্যবহার করছে।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে বিচারপ্রক্রিয়াআন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দ্বিতীয়বারের মতো গভর্নর হতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা করছেন এহক।  কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠী তাকে ভোট না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কোরআনের একটি আয়াত ব্যাখ্যা করে তারা দাবি করেন, একজন অমুসলিমের অধীনে মুসলিমরা থাকতে পারে না। কিন্তু অন্য অনেক ইসলামী বিশেষজ্ঞ এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করে বলেন, এই আয়াতটিকে দেখতে হবে কোন যুদ্ধকালীন সময়ের পটভূমিতে এবং এটিকে আক্ষরিক অর্থে নেয়া ঠিক হবে না। এহক দাবি করেন, যারা তার বিরুদ্ধে কোরানের এই আয়াতটি ব্যবহার করছেন তারা আসলে মিথ্যে বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। আর এতেই তার বিরুদ্ধে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়। কোরআনবিরোধী মন্তব্য করেননি উল্লেখ করলেও ইতোমধ্যেই তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এহক।

এহকের এই মন্তব্য ইন্দোনেশিয়ার কট্টরপন্থী মুসলিমদের কাছে তার বিরোধিতার অজুহাত হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। এহক একে তাই কেবলই রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পর্যবেক্ষকরাও বলছেন, এক সময়কার মডারেট এই দেশটি ক্রমাগত রক্ষণশীলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

/বিএ/