যুক্তরাষ্ট্রকে ফিলিপাইন ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বললেন দুয়ার্তে

nonameযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গের সামরিক চুক্তি প্রত্যাহারের পক্ষে আরেকদফা সরব হলেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে। কম্বোডিয়া ও সিঙ্গাপুর সফর শেষ করে দেশে ফিরে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তার দেশ থেকে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেন। দুয়ার্তে সাফ জানিয়ে দেয়, আর মার্কিন অর্থসহায়তার দরকার নাই তার দেশের। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে এইসব কথা বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে  দুয়ার্তে বলেন, ‘বাই বাই আমেরিকা’। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে তিনি বলেন ‘তোমাদের অর্থের প্রয়োজন নেই আমাদের’। দুয়ার্তে বলেন, ‘তোমাদের প্রয়োজন নেই আমাদের। ফিলিপাইন ত্যাগের প্রস্তুতি নাও। ভিএফএ (ভিজিটিং ফোর্সেস অ্যাগ্রিমেন্ট) চূড়ান্তভাবে বাতিলের প্রস্তুতি নাও।’
সেপ্টেম্বরে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড এবং প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সরব হন। তিনি ফিলিপাইনের মানবাধিকার পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে অবিচারিক সব হত্যাকাণ্ড বন্ধের আহাবন জানান। প্রতিক্রিয়ায় ওবামাকে মা তুলে গালি দেন দুয়ার্তে। তিক্ততা সৃষ্টি হয় বহুদিনের ফিলিপাইন-মার্কিন সম্পর্কে। তখন থেকেই ফিলিপাইন-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়াও বন্ধের তোড়জোর শুরু হয়।
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে দুয়ার্তে জানান, ফিলিপাইনের ভূখণ্ডে তিনি কোনও বিদেশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখতে চান না। আর তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা চুক্তি এনহ্যান্সড ডিফেন্স কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট (ইডিসিএ) বাতিল করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু তিনি উল্লেখ করেননি।এর দুই/একদিনের মাথায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ২ বছরের মধ্যে তিনি মার্কিন সেনাদের তাড়াতে চান।
বস্তুত সামরিক মহড়া ও মানবিক ত্রাণ অভিযানগুলোতে সহায়তা দিতে ফিলিপাইনে পর্যায়ক্রমে মোতায়েন করা হয় মার্কিন সেনাদের। তাদের আইনি বৈধতা দিতে ১৯৯৮ সালে ফিলিপাইন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‍ভিএফএ চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছিল।  শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে দুতার্তে বলেন, “বাই, বাই আমেরিকা। ওই প্রটোকল নিয়ে কাজ শুরু কর যা তোমাদের চূড়ান্তভাবে ফিলিপিন্স থেকে তাড়াবে।”

এবার দুয়ার্তে বললেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার আরেকটি সামরিক চুক্তি পর্যালোচনার পর ‘শিগগিরই যে কোনো দিন’ তিনি তার সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের অর্থের প্রয়োজন নেই আমাদের। চীন বলেছে, যা লাগে তারাই দিবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি পাল্টে যাচ্ছে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে দুদেশের সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাব্যতার আভাস দেন তিনি। দুয়ার্তে বলেন, ‘আমি আপনার মুখ পছন্দ করি, তা আমার মতো, হ্যাঁ জনাব প্রেসিডেন্ট। আমরা একই ধরনের, একই ধরনের মানুষ একসঙ্গে ভিড়তেই পারে।’

বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান

/বিএ/