ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, সোমবার সন্ধ্যায় তুরস্কের একটি আর্ট গ্যালারি পরিদর্শনের সময় দেশটির দাঙ্গা পুলিশে কর্মরত ছিলেন এমন একজন আততায়ীর গুলিতে নিহত হন কারলভ। সিরিয়ার আলেপ্পোতে চলমান সংঘাতে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার কারণেই মেভলুট মার্ট আলটিনটাস নামের ২২ বছর বয়সী ওই আততায়ী কারলভকে আক্রমণ করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়ান এই কূটনীতিককে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে তুরস্ক বা রাশিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনও মন্তব্য করেনি।
মঙ্গলবার বিকালে কারলভের মরদেহ রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয় আংকারার এসেনবোগা বিমানবন্দরে। এ সময় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল তার মরদেহবাহী কফিন। বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ ছিল মস্কো থেকে পাঠানো একটি বিশেষ বিমান। ছয় তুর্কি সৈন্য গার্ড অব অনার দিয়ে ওই কফিন বহন করে নিয়ে যায় বিমানে ওঠানোর জন্য।
এ সময় কারলভকে ‘তুরস্ক-রাশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের শাশ্বত প্রতীক’ বলে বর্ণনা করেন তুগরুল তুর্কস। কারলভের মরদেহ বহনকারী বিমানটি মস্কো পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
২০১৩ সাল থেকে তুরস্কে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন আন্দ্রেই কারলভ। সোমবার ‘তুর্কিদের চোখে রাশিয়া’ শিরোনামের প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় কারলভকে গুলি করা হয়। বিবিসি জানিয়েছে, হামলাকারী ‘আল্লাহ আকবর’ ও ‘আলেপ্পোর কথা ভুলে যেও না’ বলে চিৎকার করেছে। তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কারলভকে হামলাকারী মেভলুট মার্ট আলটিনটাস-এর জন্ম ১৯৯৪ সালে। রুশ রাষ্ট্রদূতকে হত্যার পর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় আলটিনটাস।
এখনও পর্যন্ত আলটিনটাসের সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠনের জড়িত থাকার কথা জানা যায়নি। তবে রাশিয়া ও তুরস্ক দুই দেশই এই হামলাকে ‘প্ররোচনা’ বলে অভিহিত করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘সন্দেহাতীতভাবে এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া’ ও ‘সিরিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া’ ব্যাহত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে।
আন্দ্রেই কারলভের হত্যার পেছনে মূল হোতা কে, তা খুঁজে বের করতে রাশিয়া ও তুরস্ক উভয় দেশই সম্মত হয়েছে। এ লক্ষ্যে রাশিয়ান তদন্তকারীরা তুরস্কেও পৌঁছেছেন মঙ্গলবার।
/টিআর/ এমএনএইচ/