সেই তিউনিসীয়কে খুঁজছে জার্মানি

বার্লিনের ক্রিসমাস মার্কেটে লরি হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক তিউনিসীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে জার্মানি। ২৪ বছরের ওই ব্যক্তির নাম আনিস আমরি। জন্ম দক্ষিণ তিউনিসিয়ার তাতাউইন শহরে। অস্থায়ী অনুমতি নিয়ে বৈধভাবেই জার্মানিতে বসবাসকারী ওই ব্যক্তির সঙ্গে ইসলামি চরমপন্থীদের যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থমাস ডি মেইজিয়েরে জানিয়েছেন, 'আনিস আমরি এখনও একজন সন্দেহভাজন। তিনি অবশ্যম্ভাবী হামলাকারী নন। আমরা এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।'
এদিকে সন্দেহভাজন আনিস আমরি’র খোঁজে জার্মানির নর্থরাইন ওয়েস্টফালিয়া প্রদেশে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ট্রাকের ভেতর এই সন্দেহভাজনের যে পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে যে, জার্মানিতে থাকার অনুমতিপত্র ওই প্রদেশ থেকে ইস্যু করা হয়েছিল।
সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি গাড়ির মূল চালকের সঙ্গে ধ্স্তাধস্তির সময় আহত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিল্ড এবং অলগেমিয়েন যেইটুং নামে দুটি জার্মান পত্রিকা বলছে, সন্দেহভাজন এই তিউনিসীয় নাগরিক বিভিন্ন ভুয়া নামে পরিচিত।

সন্দেহভাজন আনিস আমরি

সন্দেহভাজন আনিস আমরি ২০১২ সালে ইতালি যায়। সেখান থেকে ২০১৫ সালে সে জার্মানি যায়। এরপর সে জার্মানিতে আশ্রয় চেয়ে আবেদন জানায়। চলতি বছর এপ্রিল মাসে তাকে সাময়িকভাবে দেশটিতে থাকার অনুমতিপত্র দেওয়া হয়।

পুলিশ এই ব্যক্তি সম্পর্কে জানে। ভুয়া ইতালীয় পরিচয়পত্র বহন করার কারণে পুলিশ অগাস্ট মাসে তাকে কিছুদিনের জন্য আটক রাখা হয়।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইসলামী ধর্মপ্রচারক আহমাদ আবদেলআজিজ, যিনি আবু ওয়ালা নামেও পরিচিত, তার ঘনিষ্ঠ মহলে ঘোরাফেরা করতো। আবু ওয়ালাকে নভেম্বর মাসেই গ্রেফতার করা হয়। তবে এই হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে যে পাকিস্তানিকে আটক করা হয়েছিল তাকে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর সন্দেহভাজন হিসাবে যে তিউনিসীয়কে খোঁজা হচ্ছে হামলার সঙ্গে তার জড়িত থাকার ব্যাপারে পুলিশ কতটা নিশ্চিত এ প্রশ্নও উঠছে।

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস ডে মেযিয়ের বলেছেন, তিনি নিশ্চিত খুব শিগগিরই হামলাকারীকে ধরা যাবে। মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মূল অপরাধী হয়তো পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং সে হয়ত সশস্ত্র। মানুষজনকে সাবধানে থাকতে বলা হচ্ছে।

এখন ট্রাকটির ভেতর চালকের চেম্বারে আনিস নামে এই তিউনিসিয়ান যুবকের পরিচয়পত্র পাওয়ার পর জার্মান পুলিশ বলছে ট্রাকের ভেতর পাওয়া সমস্ত ডিএনএ স্যাম্পল পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া সমস্ত তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

আইএস যদিও হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে তাদের এক জঙ্গী এই হামলা চালিয়েছে, কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনও তথ্যপ্রমাণ দেওয়া হয়নি।

এ পর্যন্ত কী জানা গেছে?

ট্রাকটি বাজারের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় মূল চালকের সঙ্গে হামলাকারীর ধস্তাধস্তি হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। পোল্যান্ডের নাগরিক লুকাস আরবানকে চালকের পাশের সিটে মৃত পাওয়া যায়। তার গায়ে গুলি ও ছুরির আঘাত ছিল।

তদন্তকারীরা বলছেন, ছুরিকাঘাতের পরও ওই পোলিশ চালক স্টিয়ারিং হুইলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য লড়াই চালাচ্ছিল। বিল্ড পত্রিকা একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, চালকের ময়নাতদন্ত থেকে জানা যাচ্ছে হামলা চালানোর সময়ও সে জীবিত ছিল। এরপর ট্রাকটি থেমে গেলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে ট্রাকের ভেতরে কোনও বন্দুক পাওয়া যায়নি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পোলিশ চালকের মুখ ফুলে গিয়েছিল এবং রক্তাক্ত ছিল। সে যে বাঁচার জন্য লড়ছিল তা স্পষ্ট।’

পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া শত শত সূত্রের ভিত্তিতে তারা এগোচ্ছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি বাংলা।

/এমপি/