রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত নিপীড়নের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে আসা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুলিশি নির্যাতনের সেই ভিডিওটি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমার সরকার গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের মংদোর সীমান্ত চৌকিতে সশস্ত্রদের হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে দেশটির সরকার। শুরু থেকেই নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে দেশটির দ্বি-ফ্যাক্টো ক্ষমতার প্রতিনিধি অং সান সু চির সরকার এবং সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ এবং জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়া পরিচালনার অভিযোগ তুললেও ক্ষমতাসিন সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। সু চির দাবি, মিয়ানমারে যা ঘটছে তা নিয়ে অতিরঞ্জন হচ্ছে।মিয়ানমার সরকার দাবি করছিল, রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনী আইন মেনেই কাজ করছে।
যে পুলিশ কর্মকর্তা ভিডিওটি ধারণ করেছেন, তিনি তা কত তারিখে এবং কীভাবে করেছেন তা জানাতে পারেনি কোনও সংবাদমাধ্যম। ভিডিওটি ধারণ করে তিনি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়েছেন কিনা, তাও জানা যায়নি।
ভিডিও:
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসের ৯ তারিখে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর তার দায় চাপানো হয় রোহিঙ্গাদের ওপর। আর তখন থেকেই শুরু হয় সেনাবাহিনীর দমন প্রক্রিয়া।জাতিসংঘের মতে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের রাখাইন রাজ্যে মৃতের সংখ্যা ৮৬ জন। এখন পর্যন্ত ঘরহারা হয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। পালাতে গিয়েও গুলি খেয়ে মরতে হচ্ছে তাদের।
/এফইউ/বিএ/