উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) এক নির্বাহী আদেশে তিন মাসের জন্য ৭ মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে স্থগিতাদেশ দেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলা হয়, এ সাত দেশের নাগরিকরা তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মুসলিমদের বদলে খ্রিস্টান ও সংখ্যালঘুদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়।
নির্বাহী আদেশের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হয় মুসলমানরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সংস্কৃতি কর্মীরা এর প্রতিবাদ জানান। নোবেল বিজয়ী শিক্ষা অধিকারকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতিষ্ঠাতা, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞাকে মুসলিমবিরোধী নিষেধাজ্ঞা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পররাষ্ট্র দফতরের অভ্যন্তরেই ট্রাম্পের এ আদেশের ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে। পররাষ্ট্র দফতরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম শ্যাননের কাছে প্রায় ৯০০ কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দফতরের ডিসেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে ওই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। ‘ডিসেন্ট চ্যানেল’ একটি আনুষ্ঠানিক ফোরাম, যেখানে কর্মচারীরা তাদের ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারেন এবং কোনও নিতে নিয়ে তাদের অসন্তোষ জানাতে পারেন।
সোমবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার জানিয়েছিলেন, ওই স্মারকলিপির ব্যাপারে তিনি জানেন। সেসময়, কূটনীতিকদের হুঁশিয়ারও করেন তিনি। বলেছিলেন, ‘হয় এ কর্মসূচির সঙ্গে তাদের থাকতে হবে, নয়তো তারা যেতে পারে’।
ওই আপত্তি স্মারকলিপিটির একটি খসড়া হাতে পাওয়ার দাবি করে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে তিক্ত করবে, আমেরিকান-বিরোধী মনোভাব তৈরি করবে এবং যারা মানবিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে চেয়েছিলেন তাদের মনে আঘাত লাগবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিবাসন ইস্যুতে নির্বাহী আদেশ ইস্যু করার আগে পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তাদের মাঝে একটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল। নাম প্রকাশ না করে পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারেন এমন গুঞ্জনে সে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
পররাষ্ট্র দফতরের শীর্ষস্থানীয় চার কর্মকর্তার পদত্যাগের কারণেও কূটনীতিকদের মধ্যে খানিকটা অসন্তোষ রয়েছে।
/এফইউ/