দীর্ঘ সময়ের শত্রু রাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুগের কূটনৈতিক সম্পর্কের পূণাঙ্গ পর্যালোচনা করবে ট্রাম্প প্রশাসন। পর্যালোচনা করবে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তিগুলোর। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়েছে। নির্বাচনের আগের প্রচারণায় ওই চুক্তি বাতিলেরও হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক শত্রু কিউবার সঙ্গে কীভাবে চুক্তি হলো তা খতিয়ে দেখবে ট্রাম্প প্রশাসন। কিউবার মানবাধিকার পরিস্থিতিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার কথা জানান ওই মুখপাত্র। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন অবস্থানের সঙ্গে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা’র নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ কিউবার সঙ্গে দীর্ঘ বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ওবামা প্রশাসন। এর আওতায় দুই দেশের মধ্যে কিউবার সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্য, ভ্রমণ এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অগ্রগতি লাভ করে।ওবামা যুগের শেষ সময়গুলোতে, দুই রাষ্ট্রের মধ্যে জট খুলতে শুরু করে। নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রচারণাতে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি বাতিলের হুমকি দেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুমকি দেন। ওই পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘কিউবা তার দেশের জনগণ, কিউবান-আমেরিকান নাগরিক এবং সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও ভালো একটি চুক্তি করতে আগ্রহী না হলে আমি যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা চুক্তির ইতি টানবো।’
উল্লেখ্য, ইতিহাসে একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ফিদেল কাস্ত্রোর ভূমিকা কী, তা নিয়ে বিভক্তি রয়েছে বিশ্বজুড়ে। অর্ধশতাব্দী কিউবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে তিনি সমালোচকদের চোখে একনায়ক। তবে বেশিরভাগ কিউবাবাসীর কাছে তিনি মহানায়ক। যিনি জাদুর কাঠিতে বদলে দিয়েছিলেন দারিদ্র্যপীড়িত একটি দেশকে। কিউবার দাবি অনুযায়ী, কাস্ত্রো ৬৩৪টি হত্যা পরিকল্পনা এবং চেষ্টা থেকে রেহাই পেয়েছেন। এগুলোর বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহিষ্কৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর ষড়যন্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। বিষাক্ত ওষুধ, বিষাক্ত চুরুট কিংবা বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত সাঁতারের পোশাকসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে কাস্ত্রোকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল। ২০১৬ সালের নভেম্বরে ৯০ বছর বয়সী এ নেতার জীবনাবসান হয়।
/বিএ/