ট্রাম্পের বিরুদ্ধে টেক-জায়ান্টদের আইনি লড়াই

ডোনাল্ড ট্রাম্পমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে টেক-জায়ান্ট অ্যাপল, গুগল, মাইক্রোসফটসহ প্রায় ১০০টি তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে সিলিকন ভ্যালির একজোট হওয়াটা এবারই প্রথম। এর আগে ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ওয়াশিংটনের মামলায় আইনি সমর্থন জানিয়েছিল ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং অনলাইনভিত্তিক পর্যটন সংস্থা এক্সপিডিয়া। পৃথকভাবে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল মাইক্রোসফট-গুগল-অ্যাপল কর্তৃপক্ষ।

সিলিকন ভ্যালির ৯৮টি কোম্পানির এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ছে দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতে। অভিবাসীদের জন্য দরজা বন্ধ রাখার মানে প্রতিভা, কর্মদক্ষতা, পণ্যের গুণগতমান, ব্যবসা – সবদিক থেকেই পিছিয়ে পড়া।’

প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে রবিবার রাতে আদালতের দ্বারস্থ হয় কোম্পানিগুলো। আপিল আদালতের নাইনথ সার্কিট কোর্টে এ মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর গত ২৭ জানুয়ারি সাত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ – সিরিয়া, ইরাক, ইরান, লিবিয়া, সুদান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির নির্বাহী আদেশ দেন। পরে ওই নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দেন সিয়াটলের ফেডারেল বিচারপতি জেমস রবার্ট, যা পুরো দেশের জন্য কার্যকর হয়। এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের প্রশাসন আপিল করলেও তা খারিজ করে দেন মার্কিন আপিল আদালত। ওই আদালতেই মামলা করেছে সিলিকন ভ্যালির কোম্পানিগুলো।

জানা গেছে, সিলিকন ভ্যালির ৩৭ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদেশি। তাদের মধ্যে অন্তত দুই শতাধিক রয়েছেন নিষিদ্ধ করা সাত দেশের বাসিন্দা। সিলিকন ভ্যালির অভিযোগ, ‘ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা বৈষম্যমূলক।’

কোম্পানিগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘দেশের অনেক মহান আবিষ্কার এবং কিছু উদ্ভাবনী ও অগ্রগামী কোম্পানির স্রষ্টা অভিবাসীরা।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিজেদেরকে অনিষ্টকারীদের থেকে রক্ষার গুরুত্ব আমরা বুঝি। তবে এজন্য আমরা অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর নিজেদের মৌলিক প্রতিশ্রুতি এড়িয়ে যেতে পারি না।’  

সূত্র: ব্লুমবার্গ, দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট।

/এসএ/বিএ/