ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, সপ্তাহান্তে আপিল আদালতে এ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে রুল জারির কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে মার্কিন বিচার বিভাগ। সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক নাইনথ্ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করে ১৫ পৃষ্ঠার যুক্তিতর্কে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয় জানিয়ে এটি ‘প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার আইনসম্মত ব্যবহার’ বলে দাবি করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আবেদন জানানো হয়।
এক পর্যায়ে সান ফ্রান্সিসকোর আপিল আদালতের বিচারপতি রিচার্ড ক্লিফটন জানতে চান, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে যদি বিশ্বের মাত্র ১৫ শতাংশ মুসলিম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে একে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলা যাবে কিনা।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা ৭ দেশ মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি, এমন অভিযোগের বিপরীতে সরকারের হাতে তথ্যপ্রমাণ আছে কিনা, তাও জানতে চেয়েছে আদালত।
২৭ জানুয়ারি ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ওই নির্বাহী আদেশে পরবর্তী চারমাসের জন্য সব ধরনের শরণার্থীদের ওপর আরোপ করা হয়। পরবর্তী তিন মাসের জন্য সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
শুক্রবার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশ স্থগিত করে রুল জারি করেন। সিয়াটলের ফেডারেল আদালতের বিচারক জেমস রবার্টসন ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক ও রাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেন।
আদালতের আদেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞাভুক্ত সাত দেশ ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন, বৈধ ভিসাধারী নাগরিকরা পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পায়।
তবে স্থগিতাদেশের একদিন পরই শনিবার এর বিরুদ্ধে আপিল করে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। আপিলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার আবেদন জানানো হলেও তা অগ্রাহ্য করা হয়। সোমবার ওই নষেধাজ্ঞার ব্যাপারে হোয়াইট হাউস ও বিচার বিভাগকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার সুযোগ দেয় আপিল আদালত।
/এফইউ/বিএ/