উল্লেখ্য, রাতভর ভারি বৃষ্টিপাতে কলম্বিয়ার পুতুমায়ো প্রদেশের নদীর পানি উপচে মোকোয়া শহর প্লাবিত হয়। শনিবার ভোরের দিকে বহু ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ে। কলম্বিয়ার ২০০ বছরের ইতিহাসে এ ঘটনাকে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় বলে মনে করা হচ্ছে। একদিন আগেও যা ছিল প্রাণচঞ্চল, ঘরবাড়িতে ভরা, সেই মোকোয়া শহর এখন কেবলই পলিমাটিতে ঢাকা। তিনটি নদী থেকে ছুটে আসা বন্যার পানিতে থাকা পলিমাটি, পাথর আর কাঠের তক্তায় ঢেকে গেছে পুরো এলাকা। আর তার নিচে চাপা পড়েন শত শত মানুষ। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোকে অস্থায়ী মর্গে রেখে শনাক্তকরণের কাজ চলছে।
রবিবার প্রেসিডেন্ট সান্তোস বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা সর্বশেষ ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারব না, ততক্ষণ আমাদের কাজ চলবে।’
সান্তোস জানান, পলিমাটি চাপা পড়ে ২৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরমধ্যে ৪৪ শিশুসহ অন্তত ১৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা সঠিক করে বলাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে বিবিসি বলছে, মৃতের সংখ্যা ৩০০ হতে পারে।
এদিকে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল নিখোঁজের সংখ্যা ২০০। তবে রবিবার বিকেলে এক টুইটে সান্তোস দাবি করেন, সরকারি হিসেবে কেউ নিখোঁজ নেই। অবশ্য, রবিবার সকালে মোকোয়া থেকে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শিশুরা নিখোঁজ রয়েছে জানিয়ে স্থানীয়রা কাঁদছেন। তারা নিখোঁজ শিশুদের নামের একটি তালিকাও করেছিলেন।
মোকোয়া শহরটিতে ৩ লাখ ৪৫ হাজার মানুষের বসবাস। শহরটির গভর্নর সরেল আরোকা কলম্বিয়ার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আশেপাশের সব এলাকা মাটিতে চাপা পড়ে গেছে। শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে এবং রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মোকোয়া শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ রাস্তা ভেঙে পড়েছে। কলম্বিয়ার আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে,২০১১ সালের পর চলতি মার্চ মাসেই সবচেয়ে বৃষ্টিপাত হয়েছে দেশটিতে। পুতুমায়ো ইকুয়েডর ও পেরু সীমান্তে অবস্থিত। চলতি বছরের শুরুতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পেরুতে বন্যা ও ভূমিধসে ৯০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
/এফইউ/