শেখ হাসিনার সফরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ সফরে তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সরকারের আমলেই তিস্তা চুক্তি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০১৮ সালের মধ্যে যদি তিস্তা চুক্তি হয়, তাহলে তখনই দিল্লিতে আসতে পারতেন শেখ হাসিনা। সেটা না করে কেন তিনি তড়িঘড়ি (দুইবার পেছোনোর পরও) করে এই সফর করলেন?
উভয় দেশের পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার ভারত সফরে করা চুক্তিগুলো কয়েকমাস পরে হলেও কোনও ক্ষতি হতো না। তাই এ সফরকে ফলপ্রসূ বা ঐতিহাসিক বলা যায় না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী জুলাই মাসে প্রণব মুখার্জির রাষ্ট্রপতি পদে মেয়াদ শেষ হবে। দ্বিতীয় মেয়াদে তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষিণ। মেয়াদ শেষে তিনি দিল্লির এপিজে আবদুল কালাম রোডের একটি বাংলোতে উঠবেন। তাই উভয় দেশই চাচ্ছিল শেখ হাসিনা প্রণব মুখার্জির মেয়াদেই ভারত সফর করুক। আর এ জন্যই তড়িঘড়ি করে সফর করলেন শেখ হাসিনা।
জানা গেছে, প্রণব মুখার্জি ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদেই তড়িঘড়ি করে এ সফর হয়েছে। ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর শেখ হাসিনা রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে সপরিবারে দিল্লিতে যান। আর তখনই প্রণব মুখার্জির সঙ্গে তার আস্থা ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। তখন থেকে শেখ হাসিনা প্রণব মুখার্জিকে ‘কাকাবাবু’ বলে সম্বোধন করেন। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে প্রণব মুখার্জি শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অভিভাবক হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন।
কয়েক বছর আগে প্রণব মুখার্জি গল্পচ্ছলে এ প্রতিবেদককে জানান, ‘তখন আমি নিজের ছেলে-মেয়েকে সময় দিতে পারতাম না। কিন্তু কিন্তু শেখ হাসিনার ছেলে-মেয়েকে দিল্লির উপকণ্ঠে বডখল লেকে নিয়ে যেতাম। অনেক রবিবারে বোটিং পর্যন্ত করেছি, স্পষ্ট মনে আছে।’
২০১২ সালের জুলাই মাসে ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রণব মুখার্জি প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসেন। তখনও বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিলেন শেখ হাসিনা।
জানা গেছে, শেখ হাসিনাও চেয়েছিলেন তার কাকাবাবু রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকতে থাকতেই ভারত সফরটা সেরে ফেলতে। ভারত সরকারেরও সে রকম ইচ্ছা ছিল। কিন্তু তিস্তা নিয়ে জট না খোলায় সফর দুইবার পেছানো হয়। তবে এ সময় সফরটি না হলে দুই দেশের নেতাদেরই অতৃপ্ততা রয়ে যেতো। তাই তিস্তা চুক্তি এজেন্ডার বাইরে রেখেই এ সফর অনুষ্টিত হলো। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিও প্রটোকল ভেঙে শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকার আমন্ত্রণ জানান। আর রাষ্ট্রপতি ভবনে নিজের হাতে ইলিশ রান্না করে কাকাবাবুকে খাওয়ান শেখ হাসিনা। তাদের এ সম্পর্ক এটাই প্রমাণ করে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণ কূটনীতির জটিলতাকে সহজ করে।
/এসএনএইচ/