বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অভিবাসননীতি চায় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

বার্ষিকভাবে অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে আনার যে নীতি বাস্তবায়ন করছে যুক্তরাজ্য, তা থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এ জন্য একটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি অভিবাসননীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে এ আহ্বান জানিয়েছে দেশটির উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী কর্তৃপক্ষ ইউনিভার্সিটিজ ইউকে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অভিবাসননীতি চায় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

যুক্তরাজ্যে হয়তো ভালোভাবে গ্রহণ করা হবে না এমন ধারণা থেকে অনেকে সেদেশে পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। ইউনিভার্সিটিজ ইউকে-এর প্রেসিডেন্ট এবং কেন্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ডেম জুলিয়া গুডফেলো বলেন, ‘অভিবাসী কমানোর অংশ হিসেবে যতদিন ব্রিটিশ সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদেরকে দীর্ঘমেয়াদী অভিবাসী হিসেবে গণনা করবে ততদিন তাদের ওপর চাপ থাকবে। এদেশে তাদেরকে ভালোভাবে গ্রহণ করা হবে না এমন আশঙ্কা থেকে তাদের সংখ্যা কমে যাবে।’

ব্রেক্সিটজনিত বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে জুলিয়া বলেন, ‘যুক্তরাজ্য যদি বিশ্ব শিক্ষার্থীদের জন্য শীর্ষস্থানীয় গন্তব্যস্থল হিসেবে নিজেকে ধরে রাখতে চায় তবে আমাদের জন্য নতুন একটি অভিবাসননীতি প্রয়োজন। এ অভিবাসননীতি তাদেরকে যুক্তরাজ্যে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করবে। যুক্তরাজ্য যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বিশ্বের মেধাবীদের যুক্তরাজ্যে স্বাগত জানানোটা আমাদের জন্য আরও বেশি জরুরি।’

গুডফেলো আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা এক হিসাবে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন করে বিদেশি শিক্ষার্থীর ভর্তির সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে কমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দুদেশই তাদের দুয়ার খোলা রেখেছে। হাত বাড়িয়ে তাদের গ্রহণ করছে এবং এসব দেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় তাদেরকে অস্থায়ী কিংবা সাময়িক বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।’

/এফইউ/এএ/