কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরের হত্যাকারী পুলিশ আত্মসমর্পণের পর জামিনে মুক্ত

হত্যাকারী পুলিশ কর্মকর্তা রয় অলিভারযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরকে গুলি করে হত্যা করা পুলিশ কর্মকর্তা আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে আর্থিক জামানতে তিনি মুক্তি পান বলে পুলিশ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।

ডালাস কাউন্টি পুলিশের মুখপাত্র মেলিন্ডা আরবিনা এক ইমেইলে জানান, টেক্সাসের বালস স্পিংসের ৩৭ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা রয় অলিভার আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে তিন লাখ ডলারে জামিনে মুক্তি পান অলিভার।

শনিবার রাতে ডালাসের উপকণ্ঠে জর্ডান এডওয়ার্ডস একটি অনুষ্ঠান থেকে তার ভাইদের সঙ্গে গাড়িতে করে যাচ্ছিল। পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্বে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় শ্বেতাঙ্গ ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের দিকে রাইফেল থেকে গুলি চালান।

গাড়িতে থাকা জর্ডানের দুই ভাইয়ের সামনেই সে মারা যায় বলে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন।

প্রথমে বালস স্পিংসের পুলিশ দাবি করেছিল, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গুলি চালাতে বাধ্য হয়।

তবে পরে ওই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এ স্বীকারোক্তি দেয় পুলিশ। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একজন পুলিশ কর্মকর্তা একটি পার্টি থেকে বের হয়ে ওই কিশোরকে গুলি করে হত্যা করেন। 

জর্ডান এডওয়ার্ডস (বামে)

এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা রয় অলিভারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।  

নিহত জর্ডান অ্যাডওয়ার্ডস নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া একজন ফুটবলার হিসেবেও তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। ২০১৪ সালের ৯ আগস্ট মিজৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস কাউন্টির ফারগুসন শহরে মাইকেল ব্রাউন (১৮) নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ শ্বেতাঙ্গ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। এ ঘটনায় টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতা মোকাবিলায় পুলিশকে বেগ পেতে হয়।

পুলিশের অতিরিক্ত ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর শক্তিপ্রয়োগ নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। গত তিন বছরে পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন সময়েই বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী। মার্কিন পুলিশের বর্ণবাদ প্রবণতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শুরু হয় ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন।

/এসএ/