নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে ফ্রান্সের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। তবে প্যারিস, লিওন বা মার্সিলির মতো বড় শহরগুলোতে ৮টা পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে। রাত ৮টার পর থেকেই বুথফেরত ভোটারদের ওপর জরিপ চালিয়ে নির্বাচনের গতি নির্ধারণের চেষ্টা চালাবে ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলো। এরপর প্রকাশিত হবে বেসরকারি ফলাফল। তবে সরকারিভাবে ফল ঘোষণা হবে ১০ মে। ফরাসি গণপরিষদের প্রেসিডেন্ট লরাঁ ফ্যাবিয়াস সেদিন ফল ঘোষণা করবেন।
আগামী ১১ ও ১৮ জুন দেশটিতে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনী জরিপগুলোতে এগিয়ে আছেন অপেক্ষাকৃত তরুণ রাজনীতিক ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ২৩ থেকে ২৬ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন তিনি। ম্যাক্রোঁর বয়স মাত্র ৩৯ বছর। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কিন্তু গত বছর পদত্যাগ করে নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী লি পেনও তেমন অভিজ্ঞ রাজনীতিক নন। ৪৬ বছর বয়সি এই নারী ১৯৮২ সালে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত রক্ষণশীল ও কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এফএন) ব্যানারে নির্বাচনে নামেন। কিন্তু এই দলের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ ও জাতিগত দৃষ্টিভঙ্গি লালনের অভিযোগ থাকায় প্রথম দফার ভোটের পর দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন লি পেন। উদারপন্থি ও স্বতন্ত্র ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনের দেড় দিন বাকি থাকতে সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী ম্যাক্রোঁর প্রচারণা দলের ই-মেইল ফাঁস হয়েছে। তাদের দাবি, ‘গণতান্ত্রিক অস্থিশীলতা’ সৃষ্টির জন্য এ কাজ করা হয়েছে। হ্যাকিং নিয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছেন সম্ভাব্য বিজয়ী ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যে বড় ধরণের হ্যাকিং এর শিকার হয়েছে সেটার জবাব দেয়া হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের রাতে তিনি বলেন সবায় জানতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা ঝুঁকির মধ্যে পরতে পারে। তিনি মূলত সে সময় আমেরিকার নির্বাচনের সময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে হ্যাকিং এর অভিযোগ ওঠে সেদিকে ইঙ্গিত করেন।
উইকিলিকস দাবি করছে, ফাঁসের এই ঘটনা সত্য।
মোটা দাগে ফ্রান্সের এবারের নির্বাচনে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বেকারত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কর্মজীবীদের অধিকার, বিশ্বায়ন, অভিবাসন, শরণার্থী ও সেক্যুলারিজম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফ্রান্স। কিন্তু এবারের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে, ফ্রান্স ইইউ-তে থাকবে কি থাকবে না। ম্যাক্রোঁ ইইউ-এর সমর্থক কিন্তু লি পেন তার ঘোরতর বিরোধী। ইইউ-এর বিরুদে সব ধরনের সুযোগ কাজে লাগানোর অঙ্গীকার করেছেন তিনি। তার নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে, জয়ী হলে ব্রেক্সিটের মতো ফ্রেক্সিট বিষয়ে গণভোট দেবেন।
ব্রিটেনের ইস্ট অ্যাঙলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞানের শিক্ষক পিয়েরে বককিউলোন। তিনি বলেছেন, ‘প্রথম দফার নির্বাচনে ডানপন্থি দি রিপাবলিকানস পার্টি এবং মধ্য বামপন্থি সোশ্যালিস্ট পার্টি মোট গৃহীত ভোটের মাত্র ২৬ শতাংশ পেয়েছে। ফিফথ রিপাবলিকের ইতিহাসে এই দুই দলের সর্বনিম্ন ভোট পাওয়ার ঘটনা এটি।’ তিনি মনে করছেন, মূলধারার ওই রাজনীতিকরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। ক্ষমতায় গিয়ে একই ধরনের নীতি গ্রহণ করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হারের চেয়েও বড় কথা হলো এটি সোশ্যালিস্ট পার্টি ও রিপাবলিকান ঐতিহ্যের পরাজয়।
/বিএ/