নির্বাচিত হওয়ার পরের বিজয় ভাষণে মানুষে মানুষে ঐক্য-বিশ্বাস-আস্থার প্রশ্নকে সামনে এনেছেন মধ্যপন্থী ইমানুয়েল ম্যাক্রন। আলোকায়নের ফরাসি ঐতিহ্যে যুক্ত করতে চেয়েছেন নতুন অধ্যায়। ব্যক্তিজীবনেও তিনি এক দুর্দান্ত প্রেমিক। আদি-অকৃত্রিম মনুষ্য-প্রেমের ইতিহাসে যিনি এক অন্যরকম অধ্যায় রচনা করেছিলেন এক কথিত অসম প্রেমের মধ্য দিয়ে।
নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও তেমন একটা আলোচনায় ছিলেন না ম্যাক্রন। তবে প্রথম দফার ফলাফলের পর তুমুল আলোচনায় আসেন তিনি। লে পেনের সঙ্গের দ্বিতীয় দফা লড়াইয়ের আগেই একনিষ্ঠ ব্যক্তিগত প্রেমের এক অজানা ইতিহাস উঠে আসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে।
ইমান্যুয়েল ম্যাক্রন তখন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। ১৭ বছরের এই কিশোর দুঃসাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে শিক্ষিকা ব্রিজিত থনিওকে প্রেম নিবেদন করেন। ম্যাক্রনের কথায় মৃদু হেসেছিলেন ৪২ বছর বয়সী শিক্ষিকা ব্রিজিত। ভেবেছিলেন, এই কৈশোরের আবেগ-আবেশ কেটে যাবে পরিণত বয়সে। তবে ছাত্রটি ছিল নাছোড়। চ্যালেঞ্জের সুরে কিশোর ম্যাক্রন বলেছিল, ‘দেখে নিও, একদিন ঠিকই তোমাকে পাব।’
অঙ্গীকার রেখেছেন ম্যাক্রন। বড় হয়ে সত্যিই বিয়ে করেছেন তার কৈশোরের ভালো লাগা-ভালোবাসার প্রেমিকাকে। বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী এই নতুন প্রেসিডেন্টের ফার্স্ট লেডি হবেন তারই সেই শিক্ষিকা ব্রিজিত থনিও। ম্যাক্রনের সেই কৈশোর-প্রেমিকার বয়স এখন ৬৪ বছর।
তখনকার চেনাজানা ফরাসি সমাজে ইমান্যুয়েল-ব্রিজিতের প্রেমকে দেখা হতো অসম হিসেবে। ম্যাক্রনের পরিবারে ওই প্রেম নিয়ে বেশ অশান্তিও হয়েছিল সে সময়। ম্যাক্রনের মা-বাবা ছেলের এই সম্পর্ক মানতে রাজি ছিলেন না। কারণ, ব্রিজিত তখন বিবাহিত আর তিন সন্তানের জননী। ছেলের বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত তার কাছ থেকে ব্রিজিতকে দূরে থাকতে বলেছিলেন ম্যাক্রনের বাবা। ব্রিজিত কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে ম্যাক্রনের বাবাকে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমি তোমাকে কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে পারছি না।’
তবে কবে একতরফা প্রেম দুজনের হয়ে ওঠে, তা স্পষ্ট নয়। এ ব্যাপারে ব্রিজিতের বক্তব্য, ‘কেউ কোনও দিন জানবে না, কখন থেকে আমাদের গল্প একটি প্রেমের গল্পে পরিণত হয়েছে। এটা শুধুই আমাদের। আর এটাই আমাদের গোপন রহস্য।’
/এফইউ/বিএ/