উত্তর কোরিয়া সফরে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট

মুন জা-ইনউত্তর কোরিয়া সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুন জা-ইন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণে তিনি দেশের অর্থনীতি এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জোর দিয়েছেন। বুধবার অভিষেক ভাষণে মুন জা-ইন বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি বজায় রাখতে সম্ভব সবকিছুই করা হবে। প্রয়োজন হলে শিগগিরই ওয়াশিংটন সফর করবো। বেইজিং এবং টোকিও’তেও যাবো। এমনকি সঠিক  সময়ে পিয়ংইয়ং’ও সফর করবো।

৯ মে ২০১৭ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মুন জা-ইন-কে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুন জা-ইন। একদিন পর বুধবার সিউলের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভবনে শপথ নেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন মুন জা-ইন। তার পক্ষে ভোট দিয়েছেন মোট এক কোটি ৩১ লাখ ২৩ হাজার ৮শ ভোটার। মুনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লিবার্টি কোরিয়া পার্টির হং জুন-পিয়ো পেয়েছেন ২৫.৫ শতাংশ ভোট।

নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার আগেই বুথফেরত জরিপে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, মুন-ই হতে যাচ্ছেন জিউন-হাইয়ের উত্তরসূরী। ভোট গণনার সময় ডেমোক্রেটিক দলের এই প্রার্থী অবস্থান নিয়েছিলেন রাজধানী সিউলের গুয়ানঘুয়ামুন স্কয়ারে। সেখানে তিনি সমর্থকদের বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার সব মানুষের প্রেসিডেন্ট হতে চাই। আমাকে অনেকেই সমর্থন জানিয়ে আসছেন এবং আমার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তারা চান এমন একটি ন্যয়সঙ্গত ও একতাবদ্ধ দেশ গড়তে, যেখানে নীতি ও জ্ঞানের মূল্য রয়েছে। তাদের জন্য এটি একটি বড় বিজয়।’

ধারণা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৬৪ বছর বয়সী সাবেক এই মানবাধিকারকর্মীর মেয়াদকালে উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে নীতি বদলাবে দক্ষিণ কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার আগের সরকারগুলো উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গে কঠোর মনোভাব দেখালেও মুন জা-ইন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পক্ষে।

মুন এমন একটি সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন যখন একদিকে দক্ষিণ কোরিয়া আর্থিক সংকট মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে কোরিয়া উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া কার্যত ত্রিমুখী যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ৬৫ বছর বয়সী পার্ক জিউন-হাই। একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে। পার্কের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি তার বন্ধুকে দুর্নীতির সুযোগ করে দেন। তার বন্ধু চোই সুন-সিল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদানের নামে ৬৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেন। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা।

/এমপি/