পুলিশি ধারণায় পরিবর্তন: ম্যানচেস্টারে একাই হামলা করেছিল সালমান

সালমান আবেদিম্যানচেস্টারের আত্মঘাতী হামলার পরপরই ব্রিটিশ নিরাপত্তা সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিল, হামলাটি লোন উলফ বলে ধারণা করছেন তারা। একদিনের মাথায় ওই অনুমান থেকে সরে গিয়ে তারা জানিয়েছিল, হামলাকারী সালমান একটি জঙ্গি নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। এবার সেই ধারণা থেকে সরে এসে আবারও হামলাটিকে লোন উলফ (একক ব্যক্তির হামলা) বলছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। যে বিস্ফোরকে ওই হামলা চালানো হয়েছে, তার বেশিরভাগ উপাদানই সালমান নিজে সংগ্রহ করেছে বলে প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর ভিত্তিতেই হামলাটিকে লোন উলফ বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগে এ ব্যাপারে উপসংহারে পৌঁছাতে চান না তারা।  
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব কথা উঠে এসেছে। ব্রিটিশ পুলিশের নর্থ ওয়েস্ট কাউন্টার টেররিজম ইউনিট-এর প্রধান রুস জ্যাকসন বিবিসিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

২৩ মে (মঙ্গলবার) ম্যানচেস্টার পুলিশ দাবি করেছিল, আত্মঘাতী ওই হামলাকারী ছিলেন লোন উলফ। ‘এই পর্যায়ে আমরা ধারণা করছি, একজন হামলাকারীই এই হামলা চালিয়েছে। হামলায় নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।’  উল্লেখ্য লোন উলফ অর্থ হলো একা একজন ব্যক্তি ‘টার্গেটেড’ কোনও স্থানে গিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো। এ ধরনের হামলার কারণে হামলাকারী জীবিত না থাকায় তার কাছ থেকে কোনও তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ২৪ মে (বুধবার) সকালে হামলাকারী প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুড এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকার ধারণার কথা। তিনি বলেন, 'সম্ভবত সে একা একা এ হামলা চালায়নি। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সালমান আবেদীকে আগে থেকে চিনতেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি পরবর্তী কয়েক দিন কিংবা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সালমানের ব্যাপারে আরও তথ্য জানব।’
তবে ৩০ মে (মঙ্গলবার) পুলিশ কর্মকর্তা রুস জ্যাকসন বলেন, ম্যানচেস্টার হামলার চারদিন আগে হামলাকারী নিজেই বোমা তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে। তবে পুলিশ এখনও এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। বৃহৎ কোনও নেটওয়ার্কের সঙ্গে হামলাকারীর সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারেও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এদিকে ম্যানচেস্টার হামলায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতারকৃত তিন ব্যক্তিকে মঙ্গলবার মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কোনও অভিযোগ গঠন ছাড়াই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
নর্থ ওয়েস্ট কাউন্টার টেররিজম ইউনিট-এর প্রধান রুস জ্যাকসন জানান, এখন বিশেষ করে হামলাকারী সালমান আবেদি-র শেষ মুহূর্তের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এরইমধ্যে সিসিটিভিতে ঘটনার দিন তার কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হয়েছে। এছাড়া ফোনকলসহ নানা উপায়ে তিনি কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন সেসব বিষয়ে তদন্তকাজ পরিচালনা করছে পুলিশ।

এদিকে ম্যানচেস্টারে কনসার্টে হামলার প্রায় এক সপ্তাহ পর নতুন তদন্ত শুরু করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-ফাইভ। হামলা পরবর্তী এ অনুসন্ধানে গোয়েন্দা সংস্থাটি খতিয়ে দেখবে হামলাকারী সালমান আবেদিকে নিয়ে সতর্কতা থাকার পর কিভাবে বিষয়টি পরিচালনা করা হয়েছে। লিবিয়ান বংশোদ্ভূত সালমান ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা নিয়ে পড়াশোনা করতো। হামলার আগে থেকেই সালমানের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন তার পরিচিতজনরা। এমআই-ফাইভ খতিয়ে দেখবে, হামলাকারীর বিষয়ে এমন কোনও সতর্কবাণী তারা এড়িয়ে গেছেন কিনা যা দিয়ে হামলা থামানো যেত। এর আগে জানা গেছে সালমানের জঙ্গিবাদী মানসিকতার ব্যাপারে অন্তত তিনবার সতর্ক করা হয়েছিলো এমআই-ফাইভকে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুডও নিশ্চিত করেছেন এমআই-৫ এর আগ্রহের বিষয় ছিল আবেদি। কিন্তু তখনও তার ব্যাপারে কোনও অনুসন্ধান করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দারা তখনও তার ব্যাপারে এবং কাছের মানুষদের তথ্য সংগ্রহ করছিল। কিন্তু সতর্কতার পর কোনও ভুল হয়েছে, এখনই তা বলতে চাই না আমি।’

/এমপি/বিএ/