বৃহস্পতিবার ব্রিটেনে আগাম সাধারণ নির্বাচন। ২০২০ সালে দেশটির পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে হঠাৎ করেই ৮ জুন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘোষণা করেন। এখন শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। তবে গত ১২ দিনের ব্যবধানে এই প্রচারণা দুই দফায় বাধাগ্রস্ত হয় ম্যানচেস্টার ও লন্ডনের জঙ্গি হামলায়। জনগণের নিরাপত্তা শঙ্কা বেড়ে যায়। সামনে চলে আসে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি।
তিন মাস আগেও জরিপে অনেক বড় ধরনের ব্যবধান ছিল থেরেসা মে আর করবিনের মধ্যে। তবে সবশেষ প্রকাশিত এক জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই ব্যবধান কমিয়ে থেরেসার একেবারের কাছাকাছি চলে এসেছেন করবিন।
গত মাসে লেবার পার্টির চেয়ে ১৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকার সুবিধা হারিয়েছে কনজারভেটিভরা। সারভশেনের একটি জরিপে দেখা যায়, এখন কনজারভেটিভদের রেটিং পয়েন্ট ৪১.৫ শতাংশ এবং লেবারের পয়েন্ট ৪০.৪ শতাংশ। লিবারেল ডেমোক্রেটদের পয়েন্ট ৬ এবং ইউকেআইপি এর পয়েন্ট ৩ শতাংশ। এদিকে ইউগভ পূর্বাভাস দিয়েছে বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে কনজারভেটিভরা ৩০৪টি সিট জয় করতে পারে যা গতবারের চেয়ে ২৬টি কম। তাদের কনস্টিটিউন্সি বাই কনস্টিটিউন্সি মডেলে আরও দেখা যায় লেবার পার্টির ২৬৬টি আসন জয়ের সম্ভাবনা আছে যা গতবারের তুলনায় ৩৭টি বেশি। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির জিতবে ৩৬টি(৮টি কম) এবং লিবারেল ডেমোক্রেটদের সম্ভাবনা ১২টি আসন (৩টি বেশি)। এমন অবস্থায় কোনও দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেনা। কারণ এজন্য প্রয়োজন ৩২৩টি আসন।
৩ মাসে সংঘটিত ৩টি জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রধান প্রধান দলগুলো জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে একে অন্যের দুর্বলতা খুঁজতে ব্যস্ত। মধ্যবর্তী এই নির্বাচনটি মূলত ছিল ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে জনগনের ম্যান্ডেট অর্জনের নির্বাচন। কৌশলী ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে থেরেসা মে’র কনজারভেটিভ পার্টিকেই এখনও শ্রেয়তর মনে করে বেশিরভাগ ব্রিটিশ। নির্বাচনেও শুরুতে দেশটির মূলধারার মিাডিয়ায় কনজারভেটিভ সমর্থনের আধিপত্য দেখা গেছে। ধারাবাহিক জঙ্গি হামলার পর সেই সে সমর্থন আরও জোরালো হতে শুরু করে।
ম্যানচেষ্টারে বোমা হামলার ঘটনা আজীবন যুদ্ধবিরোধী করবিনের ভোটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা ছিল। ওই হামলার কারণে তিনদিন বন্ধ ছিল নির্বাচনী প্রচার। কিন্তু শুক্রবার জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে নিজের অবস্থান তুলে ধরেই প্রচারে নামেন করবিন। বিদেশে যুদ্ধে জড়ানোর কারণে যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়েছে জানিয়ে তিনি পররাষ্ট্রনীতি বদলের ঘোষণা দেন। এতে ক্ষমতাসীনরা হামলে পড়ে করবিনের সমালোচনায়। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, ম্যানচেস্টারে হামলার দায় করবিন যুক্তরাজ্যের কর্মের ফল বলতে চাইছেন।
এদিকে টেলিগ্রাফের সঙ্গের সাক্ষাৎকারে মে জঙ্গিবাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। আর প্রচারণার শেষ মুহূর্তে থেরেসা মে একধাপ এগিয়ে সবকিছুকে ছাপিয়ে ইসলামী জঙ্গিবাদকে উপজীব্য করেন । প্রয়োজনে মানবাধিকার আইনে পরিবর্তন এনে জঙ্গিদের শায়েস্তা করবেন বলে প্রচারণার শেষ মুহূর্তে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কনজারভেটিভ সমর্থক পত্রিকা ডেইলি মেইল দুই সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ এবাবেরর নির্বাচনকে নিরাপত্তা ইস্যুতে ভোটের দিন আখ্যা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে জয়ী কোনও দলের এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ৩২৬টি আসন পেতে হবে। ৬৫০ আসনের ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গত নির্বাচনে কনজারভেটিভরা পেয়েছিল ৩৩০ আসল। লেবার পার্টি জিতেছিল২২৯ টি।
/এমএইচ/