উল্লেখ্য, ইরানের সংবাদমাধ্যমের বাস্তবতা বিবেচনা করলে সেখানে খবর সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে রয়েছে রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধের বাড়াবাড়ি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোকে তাই কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করতে হয়। সেখানকার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ১২ জন নিহতের খবর দিলেও এদের মধ্যে ৪ হামলাকারী আছেন কিনা, সে ব্যাপারে পরিষ্কার কিছু জানায়নি তেহরান। আবার নিহতরা কেবল পার্লামেন্ট ভবনের হামলায় জড়িত নাকি তারা খোমেনির মাজারের হামলাতেও জড়িত তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাষ্ট্রীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এ ঘটনায় ৩৯ জনের আহত হওয়ার খবর দিয়েছে বিবিসি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে একটা পর্যায়ে বলা হয়েছিল, বুধবারের হামলার পর পার্লামেন্টের ভেতরের পরিস্থিতি এখন ঠিক কেমন তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছে, ভেতরে এখনও হামলাকারী রয়েছে এবং জিম্মিদশা চলছে। তবে এ খবরগুলোর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সেই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, পার্লামেন্ট ভবনের ভেতর এক আত্মঘাতী হামলাকারী তার সুইসাইড ভেস্ট বিস্ফোরিত করেছে। আরেক আত্মঘাতী সুইসাইড ভেস্ট বিস্ফোরিত করতে পারার আগেই পুলিশ তাকে থামিয়ে দিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পার্লামেন্ট স্পিকার এ হামলাকে ছোটখাটো ইস্যু উল্লেখ করে বলেন, ‘কয়েকজন ভীরুচিত্তের সন্ত্রাসী পার্লামেন্টে অনুপ্রবেশ করেছিল তবে তাদেরকে ভালোভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে’। তবে বিবিসির তখনকার প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্লামেন্ট ভবনে এখনও কয়েকজন হামলাকারী অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখান থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে আসতেও দেখা গেছে।
ইরানের স্থানীয় কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম অসমর্থিত সূত্রে পার্লামেন্ট ভবনে এমপিরা জিম্মিদশায় রয়েছেন বলে দাবি করেছিল। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সবশেষ খবরে কোনও ধরনের জিম্মিদশার খবর প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এদিকে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনা শুরুর ৫ ঘণ্টা পর ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পার্লামেন্ট ভবন জঙ্গিমুক্ত করার খবর জানিয়েছে। এরআগে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং-এর দেওয়া এক বিবৃতিতে ১২ জন নিহতের খবর জানিয়ে বলা হয়েছিল,‘নিরাপত্তারক্ষীরা তা খুঁজে দেখার চেষ্টা করছেন। ভবনটি পরিস্কারে নিয়োজিত রয়েছেন তারা।’
ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য মুজতবা জোনর স্থানীয় বার্তা সংস্থা মেহেরকে বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের জীবিত অবস্থায় আটক করতে চাইছে যেন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার মধ্য দিয়ে হামলার কারণ জানা যায়।’ তবে তেহরান কতৃপক্ষ এখনও হামলার কারণ উদ্ধার করতে পারেনি বলে জানিয়েছে।
বুধবার সকালে ইরানের পার্লামেন্ট ও ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মাজারে দুর্বৃত্তদের হামলা হয়। হামলায় সবশেষ ১২ জন নিহতের কথা জানায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের দায় স্বীকারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। আইএসের দাবি, তাদের যোদ্ধারা তেহরানের দুটি স্থানে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে তেহরান দাবি করেছে, তৃতীয় হামলার পরিকল্পনা রুখে দিয়েছে সেখানকার রাষ্ট্রীয় বাহিনী। ওই সন্ত্রাসী দলকে এরইমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
/বিএ/