নওয়াজের বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ খুরশিদ খান। অবিলম্বে নওয়াজকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস টিবিউন নওয়াজের বিরুদ্ধে খুরশিদ খানের এফআইআর করার সিদ্ধান্ত জানায়।
নওয়াজ শরিফ

কোনও অপরাধকর্ম সংঘটনের পর থানায় এফআইআর-এর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) মাধ্যমে প্রাথমিক তথ্য দিয়ে এর প্রতিকার চাওয়া হয়। এটি মূলত একটি মামলা-প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। এক্সপ্রেস টিবিউন জানিয়েছে, ২০১৩ সালের সাধারণ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সম্পদের পরিমাণ নিয়ে পার্লামেন্টে মিথ্যে বলার অভিযোগে সংবিধানের ২২-এ ধারার আওতায় নওয়াজের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে।

শনিবার (২৯ জুলাই) পেশাওয়ার প্রেস ক্লাবের এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে মোহাম্মদ খুরশিদ জানান, তিনি বলেন, ‘পানামা পেপারসে যে পরিমাণ সম্পদের কথা প্রকাশ হয়েছে তা নিয়ে পার্লামেন্টে গোপন করার কারণে আমরা ইসলামাবাদের সেক্রেটারিয়েট পুলিশ স্টেশনে নওয়াজের বিরুদ্ধে এফআইআর করব।’ মামলা শুরুর দিন হিসেবে সোমবারের দিনটিকে বেছে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

নওয়াজ শরিফ

সুপ্রিমকোর্টের সিদ্ধান্তকে ‘সাহসী’ উল্লেখ করে সাধুবাদ জানান খুরশিদ। তিনি বলেন, নওয়াজ এবং সন্তান মরিয়ম, হুসেইন ও হাসান দুই হাতে অর্থ পাচার, দুর্নীতি করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে লুটপাট চালিয়েছেন। আর এর পরিণাম ভোগ করার সময় এসেছে এখন। তিনি দাবি করেন, ২০০৪ সাল থেকে নওয়াজ এফজেডই নামের একটি বিদেশি কোম্পানিতে মার্কেটি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। পরে নওয়াজ ওই কোম্পানির চেয়ারম্যান হন এবং মাসে ১০ হাজার দিরহাম আয় করেন।

খুরশিদের দাবি, ক্ষমতায় আসার আগে নওয়াজের সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ২৫০ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি। আর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নওয়াজের সস্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩৫০ মিলিয়ন ডলারে। অথচ ২০১৩ সালের নির্বাচনে যখন জাতীয় পরিষদে আসন পাওয়ার জন্য নওয়াজ আবেদন করেন তখন সমস্ত সম্পদের হিসেব দেননি তিনি। একে অবৈধ ও অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন খুরশিদ।

/এফইউ/বিএ/