আফগান শিয়া মসজিদের আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশের শিয়া মসজিদে সংঘটিত আত্মঘাতী হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। প্রাদেশিক গভর্নরের পক্ষ থেকে  প্রাথমিকভাবে আল জাজিরাকে হামলায় ৫০ জন নিহত হওয়ার কথা জানানো হলেও হেরাত পুলিশের পক্ষ থেকে ২০ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়। তবে হেরাতের সবথেকে বড় হাসপাতালে ২৯ মরদেহ আসার কথা জানিয়েছেন সেখানকার একজন ডাক্তার। এদিকে বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খবর লিখছে 'বহু হতাহত' শিরোনামে। সবমিলে মসজিদের ওই হামলায় ঠিক কতোজনের প্রাণহানি হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।Afghanistan

হেরাত পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার জানায়, হেরাতের জাওয়াদিয়া মসজিদে নামাজের সময় প্রবেশ করে দুই হামলাকারী। মুখপাত্র আবদুল আহাদ ওয়ালিজাদ বলেন, হেরাতের জাওয়াদিয়া মসজিদে নামাজের সময় প্রবেশ করে দুই হামলাকারী। একজন তার শরীরে বেঁধে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। অন্যজনের কাছে ছিল রাইফেল। হামলায়  ২০ জন নিহত এবং বহু মানুষের আহত হওয়ার কথা জানান মুখপাত্র আবদুল আহাদ। তবে প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র জালানি ফারহাদ ঘটনার পর কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানিয়েছিলেন, হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫০ ছুঁয়েছে। আর হেরাতের প্রধান হাসপাতালে কর্মরত ডা. সিরাজি জানিয়েছেন, কেবল তাদের হাসপাতালেই ২৯ টি মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে।


মসজিদের হামলাটি এমন সময় সংঘটিত হয়, যখন  প্রায় ৩০০ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সেখানে নামাজ আদায় করছিলেন। হেরাতের প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাজিব দানিশ বলেন, শহরের জাওয়াদিয়া মসজিদের গেট এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন মসজিদের হামলায়। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। 

আফগান শিয়া মসজিদে হামলা

রাজধানী কাবুলে ইরাকি দূতাবাসের সামনে আত্মঘাতী হামলার পরদিন এই আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটল। ইরাকে বোমা বিস্ফোরণ, আত্মঘাতী হামলা অনেকটা নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে উঠলেও এই প্রথম আফগানিস্তানের ইরাকি দূতাবাসকে টার্গেট করা হয়। সোমবারের হামলাকারীদের চারজনই ওইদিন নিহত হন। দূতাবাসে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করা হয়। তবে মসজিদের হামলায় এখনও কেউ দায় স্বীকার করেনি।

জাতিসংঘের হিসাবে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে আফগানিস্তানে সহিংসতায় ১৬৬২ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এদের ২০ শতাংশই নিহত হয়েছে কাবুল শহরে। সূত্র: আল জাজিরা।

/বিএ/