ভারতের বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে এখন পর্যন্ত ৫৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। এরমধ্যে উত্তরাখন্ড ও হিমাচল প্রদেশে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আসামেও বন্যার কারণে মারা গেছেন ১০ জন। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানের বন্যায় অর্ধশতাধিক নিহত হওয়ার খবর পেয়েছেন তারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে জানা যায়, হিমাচল প্রদেশে ভূমিধসে দুইটি বাস খাদে পড়ে গিয়ে অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এরপর থেকেই ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং অসংখ্য গাড়ি আটকা পড়ে আছে।
ঘটনস্থল পরিদর্শন করে প্রদেশের মুখপাত্র বীরভদ্র সিং বলেছেন, সবগুলো দেহ উদ্ধার করা না পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। স্বাস্থ্যমন্ত্র কল সিং ঠাকুর বলেছেন ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যেকর পরিবারে ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।
আসাম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু স্থানেও বৃষ্টির কারণে বন্যা হয়েছে। সেখানে নিহত হয়েছন ১০ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাড়ে ২২ লাখ। ব্রহ্মপুত্রসহ ১০টি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক, পবিত্র অভয়াশ্রম ও লখুয়া অভয়াশ্রমের বেশিরভাগ বন এলাকা পানির নিচে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালকে ডেকে পাঠিয়েছেন। তিন রাজ্য সরকারকে নেকন্দ্র থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
নেপালের তেরাই অঞ্চলেও কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। বিহারের আরারিয়া ও কাঠার জেলাতেও একই অবস্থা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজানাথ সিং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমারের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। সেখানে ইতোমধ্যে ৩২০ জন উদ্ধারকর্মীকে পাঠানো হয়েছ।
বিহারের কিশানগঞ্জ জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে নিতিশ কুমার প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এনডিআরএফের সাতটি দল ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌছে গেছে।
সুপলের বিরপুরে ৪৫ সেমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এঝাড়া বাঘা ও গনাহগায় ৪৭ ও বাহাদুরঘ্গঞ্জ ও কিশাণগঞ্জে ৩৬ সেমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ছত্তিসগড়, মধ্যপ্রদেশের বৃষ্টিপাত হলেও তাপমাত্রার খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায়নি।
/এমএইচ/