ইংলাক ‘অসুস্থ’ বিশ্বাস করেন না আদালত, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার (২৫ আগস্ট) সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা আদালতে হাজির না হলেও তার দেখানো কারণে সন্তুষ্ট নন আদালত। ইংলাক অসুস্থ বলে আদালত বিশ্বাস করছেন না। আদালতের ধারণা, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে লুকিয়ে আছেন কিংবা পালানোর চেষ্টা করছেন। আর সেকারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইংলাকের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার নতুন তারিখের কথা জানাতে গিয়ে শুক্রবার মুখ্য বিচারপতি চিপ চুলামন সুপ্রিমকোর্টে এসব কথা বলেন।

ইংলাক সিনাওয়াত্রা ৩
চালের ভর্তুকি সংক্রান্ত কর্মসূচি নিয়ে অবহেলা করার অভিযোগে থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে শুক্রবার রায় ঘোষণার কথা ছিল। রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর। সেইসঙ্গে আজীবনের জন্য রাজনীতি থেকেও নিষিদ্ধ হতে পারেন তিনি। শুক্রবার রায় ঘোষণার দিন আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তা করেননি ইংলাক। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী আদালতকে বলেন, তার মক্কেল অসুস্থ। তিনি কানের সমস্যায় ভুগছেন। পরে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান মুখ্য বিচারপতি চিপ চুলামন।

মুখ্য বিচারপতি বলেন, ‘তার (ইংলাকের) আইনজীবী জানিয়েছেন তিনি অসুস্থ, আদালতের রায় প্রদান বিলম্বিত করার অনুরোধ জানানো হয়.... তিনি অসুস্থ বলে আদালত বিশ্বাস করতে পারছেন না এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মনে করি না বিবাদী অসুস্থ। আমরা মনে করি বিবাদী লুকিয়ে আছেন কিংবা পালানোর উপায় খুঁজছেন।’

কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং গ্রাম্য দারিদ্র্য কমাতে ২০১১ সালে ক্ষমতাগ্রহণের পর পরই চাল ভর্তুকি স্কিম ঘোষণা করে ইংলাক সরকার। ইংলাকের চাল ভর্তুকি স্কিমের আওতায় কৃষকের কাছ থেকে বৈশ্বিক বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চাল ক্রয় করে সরকার। ইংলাকের এ নীতি ২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাকে ক্ষমতায় আসতে ব্যাপক সহায়তা করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়,ওই ভর্তুকি স্কিমের কারণে ইংলাক সরকার সেসময় ৮০০ কোটি ডলার অর্থ লোকসান করে। সরকারের কাছে অনেক চালের মজুদ থেকে যায় এবং দাম বেশি হওয়ার কারণে সেগুলো বিক্রিও করা যাচ্ছিল না। এই স্কিম নিয়ে ইংলাক দায়িত্বে অবহেলা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ইংলাকের দাবি, তিনি অন্যায় কিছু করেননি। তার দাবি, ওই ভর্তুকি স্কিমের কাজ প্রতিদিন দেখাশোনা করাটা তার দায়িত্ব ছিল না। নিজেকে রাজনৈতিক প্রহসনের শিকার বলেও দাবি করেন ইংলাক।