দুবাই পালিয়ে গেছেন ইংলাক!

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই গুঞ্জন উঠেছে তিনি পালিয়ে গেছেন। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে আসা খবরগুলোতে ধোয়াশা তৈরি হয়েছে। এবার তার দলের সিনিয়র নেতাদের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স দাবি করলো, দুবাই পালিয়ে গেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

ইংলাক সিনাওয়া্ত্রা

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চালের ভর্তুকি সংক্রান্ত কর্মসূচি নিয়ে অবহেলা করার অভিযোগে থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে শুক্রবার রায় ঘোষণার কথা ছিল। রায় ঘোষণার দিন আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও উপস্থিত থাকতে ব্যর্থ হন ইংলাক। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী আদালতকে বলেন,তার মক্কেল অসুস্থ। তিনি কানের সমস্যায় ভুগছেন। পরে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান মুখ্য বিচারপতি চিপ চুলামন। 

তার দল পিয়া থাই পার্টির সিনিয়র নেতারা দাবি করেন, গত সপ্তাহেই সিঙ্গাপুর হয়ে দুবাই পাড়ি জমিয়েছেন ইংলাক। সেখানে তার ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা থাকেন। তিনিও ২০০৮ সালে দুর্নীতি মামলা এড়াতে স্বেচ্ছানির্বাসনে আছেন। ২০০৬ সালে এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন ইংলাকের বড় ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রা। বড় দুর্নীতির অভিযোগ এড়াতে দেশ ছাড়েন তিনি। ইংলাকও ২০১৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। সামরিক জান্তা সরকার এখন থাইল্যান্ডের শাসন ক্ষমতায় রয়েছে। ইংলাকও তার ভাইয়ের মতোই বিদেশে পালিয়ে গেলেন কিনা এখন সেই প্রশ্ন উঠেছে। আর এখন শোনা যাচ্ছে, দুবাইয়ে তার ভাইয়ের কাছেই গিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, ‘আমরা শুনেছিলাম তিনি কম্বোডিয়া গিয়েছেন। সেখানে থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে দুবাইয়ে তার ভাইয়ের কাছে যান তিনি।’ তবে দেশটির পুলিশ উপপ্রধান জেনারেল শ্রিভারা র‌্যাংসিব্রাহ্মণকুল বলেন, তার দেশত্যাগের ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোনও রেকর্ড নেই।

কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং গ্রাম্য দারিদ্র্য কমাতে ২০১১ সালে ক্ষমতাগ্রহণের পর পরই চাল ভর্তুকি স্কিম ঘোষণা করে ইংলাক সরকার। ইংলাকের চাল ভর্তুকি স্কিমের আওতায় কৃষকের কাছ থেকে বৈশ্বিক বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চাল ক্রয় করে সরকার। ইংলাকের এ নীতি ২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাকে ক্ষমতায় আসতে ব্যাপক সহায়তা করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়,ওই ভর্তুকি স্কিমের কারণে ইংলাক সরকার সেসময় ৮০০ কোটি ডলার অর্থ লোকসান করে। সরকারের কাছে অনেক চালের মজুদ থেকে যায় এবং দাম বেশি হওয়ার কারণে সেগুলো বিক্রিও করা যাচ্ছিল না। এই স্কিম নিয়ে ইংলাক দায়িত্বে অবহেলা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ইংলাকের দাবি, তিনি অন্যায় কিছু করেননি। তার দাবি, ওই ভর্তুকি স্কিমের কাজ প্রতিদিন দেখাশোনা করাটা তার দায়িত্ব ছিল না। নিজেকে রাজনৈতিক প্রহসনের শিকার বলেও দাবি করেন ইংলাক।