ভারতের দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার অরুণ জেটলির হাত থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ভার অর্পণ করা হয়েছে নির্মলা সীতারমনের হাতে। এর মধ্য দিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর পর এই প্রথম কোনও নারীকে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো। আর পীযূষ গয়াল হলেন নতুন রেলমন্ত্রী। কয়লা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তার হাতেই দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে মনোহর পারিকর গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়টি সামলাচ্ছিলেন অরুণ জেটলি। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও দেখছিলেন তিনি। নির্মলার হাতে দায়িত্ব দেওয়ার পর এখন অরুণ জেটলি কেবল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেখাশোনা করবেন। প্রতিমন্ত্রী থেকেই পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে উন্নীত হয়ে রবিবার শপথ গ্রহণ করেন নির্মলা। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ যখন তাকে শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছিলেন তখন পর্যন্ত তিনি কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন তা স্পষ্ট ছিল না। পরে মন্ত্রিসভায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী পদ পেলেন ৫৮ বছর বয়সী নির্মলা ৷শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন কর্ণাটকের রাজ্যসভার এ সদস্য।
রবিবার ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ৯ নতুন প্রতিমন্ত্রী ও ৪ পূর্ণমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান। ৯ নতুন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ২ জন পার্লামেন্ট সদস্য নন। তারা হলেন প্রাক্তন আইএফএস হরদীপ পুরী ও প্রাক্তন আইএএস কে জে আলফোন্স। বাকি ৭ জন হলেন উত্তর কানাড়ার পার্লামেন্ট সদস্য অনন্তকুমার হেগড়ে, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিব ও আরার পার্লামেন্ট সদস্য আর কে সিং, যোধপুরের পার্লামেন্ট সদস্য গজেন্দ্র শেখাওয়াত, মুম্বাইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার ও বাগপতের পার্লামেন্ট সদস্য সত্যপাল সিং, উত্তরপ্রদেশের রাজ্যসভা এমপি শিবপ্রতাপ শুক্ল, বক্সারের এমপি অশ্বিনী চৌবে ও টিকমগড়ের এমপি বীরেন্দ্র কুমার। পাশাপাশি পূর্ণমন্ত্রী পদে উন্নীত হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী পদে থাকা ৪ জন। তারা হলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান,পীযূষ গোয়েল, নির্মলা সীতারমন ও মুখতার আব্বাস নাকভি।
ধর্মেন্দ্র প্রধান স্কিল ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রণালয়ের বাড়তি দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়া অনন্তকুমার হেগড়ে হলেন স্কিল ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রমন্ত্রী। নীতীন গড়কড়ি বাড়তি জলসম্পদমন্ত্রণালয়, নদী উন্নয়ন, গঙ্গা পুনরুজ্জীবনের দায়িত্ব পেয়েছেন। সুরেশ প্রভু হলেন নয়া শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী। আর কে সিং ও রাজ্যবর্ধন রাঠোরকে যথাক্রমে বিদ্যুত ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
হরদীপ পুরীকে হাউসিং ও আলফোস কান্নানথানমকে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্ব) করা হয়েছে।
জলসম্পদমন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে পানীয় জল, স্যানিটেশনের ভার দেওয়া হল উমা ভারতীকে।