কর্নাটক রাজ্যের সাংবাদিকতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন খুন হওয়া ভারতীয় সা্ংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ-এর বাবা পি লঙ্কেশ। ভারতীয় সংবামাধ্যম ওয়ান ইন্ডিয়া বলছে, সত্য প্রকাশে নির্ভীক হওয়ার কারণেই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি। গৌরী পি লঙ্কেশ-এর বড় মেয়ে ছিলেন। বাবার পথেই হেঁটেছেন তিনি। সাংবাদিকতাকে স্থাপন করতে চেয়েছেন সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের ময়দানে।
মঙ্গলবার রাতে ব্যাঙ্গালোরে নিজ বাড়ির সামনেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন গৌরী। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে বাইরে থেকে সদর দরজা পেরিয়ে বাড়িতে ঢুকতেই বেশ কয়েকটি গুলি চালানো হয় গৌরিকে লক্ষ্য করে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও ততক্ষণে তিনি চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে।
মৃত্যুর আগে বহুবার হিন্দুত্ববাদীদের কড়া চোখ রাঙানির সামনে পড়তে হয়েছে গৌরী লঙ্কেশকে। তাকে হিন্দু বিরোধী বলেও কেউ কেউ অ্যাখ্যা দিয়েছিল। বিজেপি সাংসদ প্রহ্লাদ জোশীর বিরুদ্ধে লেখা লিখে মানহানির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এরইমধ্যে ছয় মাস জেলও খেটেছেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের শিকার গৌরি জামিনে মুক্ত ছিলেন। মানহানির সেই মামলায় আইনজীবী ছিলেন বিটি ভেঙ্কটেশ। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভিকে তিনি গৌরী সম্পর্কে বলেছেন, ‘ তিনি এমন সাংবাদিক ছিলেন না যিনি ঘটনাকে কেবল প্রতিবেদন আকারে হাজির করেন। তিনি ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজতেন। এমনকী যারা কারণগুলোর জন্য দায়ী, তা্দেরও খুঁজতেন।এটাই ছিল গৌরীর বিশেষত্ব।’
ওয়ান ইন্ডিয়া জানিয়েছে, একাধারে কবি-নাট্যকার-নির্মাতা এবং সাংবাদিক বাবা পি লঙ্কেশের মতোই বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ছিলেন গৌরী। ধর্মীয় শান্তিস্থাপনের জন্য কাজ করত এমন কিছু সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার প্রকাশ করা ট্যাবলয়েড 'লঙ্কেশ পত্রিকা'-র লেখাপত্তর নিয়ে বিস্তর বিতর্কও ছিল। গৌরী মৃত্যুকালে রেখে গেছেন মা, বোন এবং ভাইকে। ইন্দ্রজিথ নামে এই ভাই শুধু সিনেমা পরিচালনা করেনই না সেইসঙ্গে বোনের সঙ্গে 'লঙ্কেশ পত্রিকা'-র দেখভালও করতেন। ২০১৫ সালে ঠিক এভাবেই নিজের বাড়ির সামনে খুন হয়েছিলেন বুদ্ধিজীবী এমএম কালবর্গী। ৭৭ বছরের এই মুক্তমনা চিন্তাবিদকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।