রোহিঙ্গাদের নিয়ে ‘উদ্বিগ্ন’ মমতা, জাতিসংঘের ডাকে সমর্থন

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্যাতনের শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আশা রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘের ত্রাণ সহায়তার আবেদনে সমর্থন দিয়েছেন তিনি। এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, ওই জনগোষ্ঠীর বিপন্নতায় তিনি উদ্বিগ্ন। এর আগেও মমতার রাজ্য সরকার বিপন্ন রোহিঙ্গাদের বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সাম্প্রতিক ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের লক্ষ্যে সেনা অভিযান শুরুর কয়েকদিনের মাথায় 'বিদ্রোহী রোহিঙ্গা'রা ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের সমন্বিত হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরদার করে সরকার। এরপর থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশছে মৌসুমী বাতাসে। মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে শূন্যে ছুড়ছেন সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হচ্ছে তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে মানুষকে। আহত শরণার্থী হয়ে তারা ছুটছে বাংলাদেশ আর ভারতে। বাংলাদেশে শরণার্থী সংখ্যা চার লাখে পৌঁছেছে। বিপুল পরিমাণ এই শরণার্থীর জন্য ত্রাণ সহায়তায় এগিয়ে আসতে জাতি-ধর্ম-রাজনৈতিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

শুক্রবার ট্যুইটার পোস্টে মমতা লিখেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার ব্যাপারে জাতিসংঘ যে আবেদন রেখেছিল আমরা তাকে সমর্থন করি। আমরা বিশ্বাস করি যে, সব মানুষই সন্ত্রাসবাদী নয়। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে সত্যিই খুব উদ্বিগ্ন’।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জতিসংঘের সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফেন দুজারিক জানান, ‘যেসব রোহিঙ্গাদের ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে তাদের বিষয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। যে সমস্ত তথ্য ও ছবি আমাদের কাছে এসেছে তা সত্যিই হৃদয় বিদারক ঘটনা। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সব রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে এই চলমান সংকট মোকাবিলা করা উচিত। যারা সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে তারা খুবই অসহায়। তারা ক্ষুধার্ত এবং অপুষ্টিতে ভুগছেন। তাদের সাহায্যের প্রয়োজন’। সেই প্রেক্ষাপটেই মমতার এই ট্যুইট।