রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান খুঁজছে মিয়ানমার

মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থং তুন বলেছেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘প্রথমদিকে যেকেউ একে ভুল বুঝতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা ও যারা মিয়ানমারের ইতিহাস সম্পর্কে জানে তারা প্রকৃত ঘটনা বুঝতে পারবেন। আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির হামলার পরই সহিংসতার শুরু হয়েছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গা সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান খুঁজছিলো।’

মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থং তুন

বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করবো।’ আরাকান আর্মির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে কোনোরকম সশস্ত্র সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। ছিলো না কোনও নিধন অভিযানও।’ মিয়ানমারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা দাবি করেন, সেখানে কোনোরকম জাতিগত নিধন বা হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়নি। তিনি বলেন, ‘আবেগের বশে মন্তব্য করে বসা দুঃখজনক। আমরা কোনোরকম না জেনেই বলে বসছি যে রাখাইনে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চলছে।’

মিয়ানমারের নেতারা সবসময়ই স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছে, তারা কখনোই জাতিগত নিধনযজ্ঞ সমর্থন করবে না বলেও দাবি তার। সরকার এটা বন্ধ করতে সবরকম পদক্ষেপ নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার তাদের দায়িত্ব নিয়ে সচতেন। রাখাইনে মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করবে তারা।

বিশ্বের সবচেয়ে জাতিগত বৈচিত্রের দেশ ছিলো মিয়ানমার। প্রায় ১৩৫টি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস ছিলো দেশটিতে। আর রাখাইনে মুসলিমরা সংখ্যালঘু নয়। সেখানকার ৯৫ শতাংশ মানুষই রোহিঙ্গা মুসলিম। বিশাল সংখ্যক মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পরও রাখাইনে অনেক মুসলিমদের বসবাস। মিয়ানমারের দাবি, এখনও বেশিরভাগ গ্রাম অক্ষত রয়েছে।

সোমবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও সাংবাদিকরা রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনে যাবেন বলে জানান তিনি। উ থং তুন বলেন, মিয়ানমার সরকার তাদের দায়িত্ব নিয়ে সচেতন এবং লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ঘটনায় উদ্বিগ্ন।

তুনের দাবি, গ্রামবাসীরাও মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিদের আক্রমণের ভয়ে তারা আতঙ্কিত। সম্প্রতি তাদের হত্যা করা হিন্দুদের গণকবরের সন্ধান পেয়েছে মিয়ানমার সরকার। এরপর থেকেই আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে মিযানমার। তাদের এই পদক্ষেপই প্রমাণ করে যে তারা জাতিগত নিধনযজ্ঞ সমর্থন করে না।