বাংলাদেশ ও ভারতের দিকে ঝুঁকছে আফগানিস্তান

বাংলাদেশ, ভারত ও আফগানিস্তানবাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে আফগানিস্তান। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বর্তমানে দেশটি দিল্লিতে ইন্দো-আফগানিস্তান বাণিজ্যমেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলায় প্রায় আটশ ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে অংশ নিয়েছে আড়াইশ আফগান প্রতিষ্ঠান।
আফগানিস্তানে তালেবান ও অন্য জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের যুদ্ধ চলছে। আর এর মধ্যেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পুনর্গঠন, জনগণের পুনর্বাসন ও অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে চায় আফগান প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো ছাড়া ভারতও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আফগানিস্তানকে সহযোগিতা করছে। হেরাত প্রদেশের সালমা ড্যাম গঠনে আফগানদের সহায়তা করার অংশ হিসেবে ৩শ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে ভারত; এ প্রকল্পে দৈনিক ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
কয়েকদিন আগে আফগান প্রেসিডেন্ট ও সিইও আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দিল্লিতে সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরালো করতে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। ভারতীয় কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারত আফগানিস্তানকে সহযোগিতা করবে এবং কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে স্থানীয় দক্ষতার উন্নতি ঘটাবে।
ভারত, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান— তিনটি দেশই পাকিস্তানের হস্তক্ষেপ ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জঙ্গি হামলা পরিচালনায় দেশটির মদদদানের ঘোরবিরোধী। আর এ ধরনের ভূমিকাকে তিনটি দেশই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ বলে মনে করে।
কয়েক মাস আগে এই তিন দেশই ইসলামাবাদে আয়োজিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে পাকিস্তান আরও খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ, ভারত ও আফগানিস্তান এ তিন দেশই পাকিস্তানকে জঙ্গিবাদে সমর্থন ও মদদ দেওয়ার জন্য দায়ী করেছে।
পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়াতে কলকাতায় একটি কনস্যুলেট খোলার জন্য আফগানিস্তান ভারতকে তাড়া দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আফগান নাগরিক বাস করছে বলে এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প কাবুলিওয়ালার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আফগান কূটনীতিকরা ভারতকে কনস্যুলেট স্থাপনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা থেকে পালিয়ে বাঁচতে বাংলাদেশিদের জন্য নিরাপদ পথ তৈরি করে দিয়েছিল আফগান কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশও গৃহযুদ্ধকবলিত আফগানিস্তানের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় গতি আনতে দেশটিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় ১৭০টি এনজিও বর্তমানে আফগানিস্তানে স্থানীয় কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
বাংলাদেশ আফগানিস্তানে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, পাট ও সিরামিক পণ্য রফতানি করে। আর আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় শুকনো খাবার ও কার্পেট। দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যাপারে আগ্রহী। ৫০ জনেরও বেশি আফগান শিক্ষার্থী বর্তমানে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে পড়াশোনা করছেন।
আরও পড়ুন-
ভারতের দুই মন্ত্রী আসছেন ঢাকায়, পররাষ্ট্র সচিব যাচ্ছেন দিল্লি