স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার ও সাংবিধানিক আদালতকে উপেক্ষা করে পুলিশের বাধার মধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে কাতালোনিয়ার নাগরিকরা ‘স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকার অর্জন’ করেছে বলে দাবি করেছেন এ অঞ্চলের প্রধান নেতা চার্লস পুজদেমন। রবিবার (১ অক্টোবর) কাতালান সরকারের অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আশা ও দুর্ভোগের এই দিনে কাতালোনিয়ার নাগরিকরা স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকার অর্জন করেছে।’
হারেজ ডটকমের খবরে বলা হয়েছে, গণভোটের ব্যালট পেপারে প্রশ্ন রাখা হয়- আপনি কি চান কাতালোনিয়া একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক? ভোটারদের উত্তর দেওয়ার জন্য রাখা হয় দুটি ঘর- ‘হ্যাঁ’, অথবা ‘না’। কাতালান সরকারের দাবি, এই ব্যালটে ২২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ভোট দেন, যার ৯০ শতাংশ ভোট স্বাধীনতার পক্ষে পড়েছে। এর মানে কাতালানিয়ার ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ভোটারের প্রায় ৪২ দশমিক ভোট স্বাধীনতার পক্ষে পড়েছে।
তবে চার্লস পুজদেমন গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের ঘোষণা দেননি। তিনি বলেছেন, আনুষ্ঠানিক ফলাফল তৈরি করা হচ্ছে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কাতালান সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, 'সংসদের ওপরই আমাদের লোকজনের সার্বভৌমত্ব নির্ভর করছে, যাতে গণভোটের বিধান অনুযায়ী তা (সার্বভৌমত্ব) আইনে পরিণত হবে।'
পুলিশের বাধা আর বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'কাতালোনিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে স্প্যানিশ সরকার আজ লজ্জাজনক এক অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে।'
এদিকে, পুলিশের বাধায় আট শতাধিকের বেশি ভোটার আহত হওয়ার পরও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, 'আজ কাতালোনিয়ায় কোনও গণভোট হয়নি।'
তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, রবিবার সকালে গণভোট শুরু হয়। রয়টার্স জানায়, সকাল ৯টায় ভোট গ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও বেশ কিছু কেন্দ্রে আগেভাগেই তা শুরু হয়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভোটদানে পুলিশের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৮০০ জন আহত হন। পুলিশ এই ভোট ঠেকাতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে বাধা দেয়, ব্যালট পেপার ও বাক্স কেড়ে নেয়। শুধু তাই নয়; বার্সেলোনায় গণভোটের সমর্থকদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে ও লাঠিপেটা করে।
কাতালান সরকারের কর্মকর্তারা দাবি করেন, পুলিশের মারধরে তাদের ৮০০ জন মানুষ আহত হন। এদিকে, স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ভোটারদের হামলায় ১২ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।
এর আগে মাদ্রিদ কেন্দ্রিক সরকার জানায়, গণভোটের জন্য নির্ধারিত ২ হাজার ৩১৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৩০০টি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। তবে কাতালান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশ মাত্র ৩০০টি কেন্দ্র বন্ধ করতে পেরেছে। ভোটকেন্দ্র বন্ধ থাকলে যেকোনও স্থানে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কাতালোনিয়ার ১৮ বছরের বেশি বয়সের বাসিন্দারা এই গণভোটে ভোট দিতে পেরেছেন। ৭৫ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫৩ লাখ ভোটার ছিলেন। তবে ভোটের হার জানা যায়নি।
এর আগেও কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার জন্য গণভোট আয়োজিত হয়েছে। স্বাধীনতাকামী কাতালানরা ২০১৪ সালে অনানুষ্ঠানিক এক গণভোটের আয়োজন করে, যাতে ৫৪ লাখ ভোটারের মধ্যে ২০ লাখের বেশি ভোটার অংশ নেয়। ওই ভোটের পর বলা হয়, ৮০ শতাংশের বেশি ভোটার স্পেন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে। তবে এবারের গণভোট আলাদা তাৎপর্য নিয়ে হাজির হয়েছে। সাংবিধানিক ও আইনি বৈধতা না থাকলেও কাতালান সরকার ঘোষণা দেয়, গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়ে, তবে তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বাধীনতার ঘোষণা দেবে।
গত জুনে কাতালোনিয়া কর্তৃপক্ষ আজকের (১ অক্টোবর) গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেয়। স্পেন সরকার এ ধরনের গণভোটকে বেআইনি বলে আখ্যা দিয়ে আসছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি