বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দায়িত্বে নিযুক্ত মন্ত্রী দাবি করেছেন, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের পালানো হয়তো পরিকল্পিত। শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আইয়ি জানান, পুরো ঘটনাকে জাতিগত নিধন হিসেবে উপস্থাপন করতে রোহিঙ্গারা হয়ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে পালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘দলগতভাবে তারা পালিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে এটি জাতিগত নিধন। হয়ত তারা পরিকল্পিতভাবেই এটি করছে। আমি বলছি এমনটি হতে পারে। কিন্তু আমি জানি না। কিন্তু হতে পারে তারা এজন্য পরিকল্পনা করেছে। যাতে করে পুরো বিষয়টি জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।’
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চলতি মাসের শেষ দিকে বৈঠকে বসবে। প্রতিদিন অন্তত ১০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মিয়ানমারের। যাদের পরিচয় মিয়ানমার সরকারের নথিতে থাকবে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তাদের শণাক্ত করতে হবে যারা সঠিক। তাদের নিজেদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হবে। যদি তাদের বাড়ি সেখানে না থাকে তাহলে আপাতত তাদের জন্য নির্মিত অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হবে।’
এদিকে, রাখাইনের সংঘাত নিরসনে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির গঠিত কফি আনান কমিশনের বক্তব্য শুক্রবার শুনেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কমিশনের প্রধান ও সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান রাখাইন বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন। নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি। পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন জনগোষ্ঠীর ওই শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২৫ আগস্ট রাখাইনে সামরিক অভিযান শুরুর পর বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে পাঁচ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। মাঝখানে কয়েকদিন রোহিঙ্গাদের ঢল কিছু মাত্রায় কমে আসলেও চলতি সপ্তাহে তা আবার বেড়েছে। সোমবার বাংলাদেশে প্রায় এগারো হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। জাতিংঘের মতে, ১৯৭০ সালের পর এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত সবচেয়ে মানুষের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা এটি।
জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের প্রামাণ্য উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মিয়ানমার সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। জাতিসংঘ রাখাইনে সামরিক অভিযানে সেনা সদস্যদের দ্বারা ধর্ষণ, নবজাতক ও শিশুসহ হত্যা, নির্মম ও গুমের ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে। রোহিঙ্গাদের ফিরে আসার পথ বন্ধ করতে বাংলাদেশ সীমান্তে স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে।